চিকিৎসার নামে নারীদের ডেকে নিয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে, ভিডিও ভাইরাল হতেই তোলপাড়!
মাদারীপুরের শিবচরে চিকিৎসার নামে নারীদের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে জামায়াতে ইসলামীর নেতা তাইজুল ইসলামের বিরুদ্ধে। পানি পড়া, ঝাড়ফুঁক ও কবিরাজি চিকিৎসার কথা বলে বিভিন্ন নারীকে নিজের বাড়িতে ডেকে নিয়ে তিনি অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়াতেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী নারী। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
bdnews24.com+2
জানা গেছে, অভিযুক্ত তাইজুল ইসলাম মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার নিলখী ইউনিয়নের পশ্চিম চরকামারকান্দি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় কবিরাজি চিকিৎসা, পানি পড়া ও ঝাড়ফুঁকের কাজ করতেন। পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় পর্যায়ের প্রচার ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিভিন্ন পারিবারিক সমস্যা, শারীরিক অসুস্থতা কিংবা ব্যক্তিগত সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দিয়ে নারীদের কাছে টানতেন তিনি। চিকিৎসার কথা বলে নিজের বাড়িতে ডেকে নেওয়ার পর তাঁদের সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়ানোর অভিযোগও উঠেছে।
সামনে এলো আরও গুরুতর অভিযোগ
স্থানীয় কয়েকজন নারীর অভিযোগ, কথিত চিকিৎসার সময় তাঁদের পানির সঙ্গে কী যেন খাওয়ানো হতো। এরপর তাঁরা অসুস্থ বা অচেতন হয়ে পড়তেন বলে দাবি করেছেন। বাধা দিতে গেলে স্বামী-সন্তানের ক্ষতি হওয়ার ভয় দেখানোর অভিযোগও করেছেন কেউ কেউ। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন তদন্ত ও আদালতে প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।
Dhaka Stream+1
আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় উত্তেজনা
গত ২৫ অক্টোবর অভিযুক্তের বাড়িতে এক নারীর সঙ্গে তাঁকে ঘিরে একটি ঘটনা ঘটে। পরে ওই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও আলোচনা শুরু হয়। অনেকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
Jagonews24+1
দলীয় দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর ২৭ অক্টোবর শিবচর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে তাইজুল ইসলামকে দলীয় সব ধরনের সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। দলটির স্থানীয় নেতারা জানিয়েছেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Jagonews24+1
অন্যদিকে, অভিযুক্ত তাইজুল ইসলাম নিজের ফেসবুক পোস্টে ভিডিওতে থাকা নারীকে স্ত্রী বলে দাবি করেছেন। তবে তাঁর বক্তব্যের বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
bdnews24.com+1
সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবি এলাকাবাসীর
এ ঘটনায় স্থানীয়দের দাবি, চিকিৎসা কিংবা ধর্মীয় বিশ্বাসকে ব্যবহার করে কেউ যদি নারীদের সঙ্গে প্রতারণা বা জোরপূর্বক কোনো অপরাধ করে থাকেন, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে যথাযথ তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী নারীদের নিরাপত্তা ও পরিচয় গোপন রাখার বিষয়টিও নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা চললেও অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে কাউকে অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে বিবেচনা করা উচিত নয়।