প্রবাসী স্বামী টাকা দেয় না—এমন অভিযোগ ১০০ শতাংশ সত্য নয়, তবে সংসারের বাস্তবতা নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন!
প্রবাসে থাকা স্বামীদের নিয়ে সমাজে প্রায়ই নানা ধরনের অভিযোগ ও আলোচনা শোনা যায়। বিশেষ করে অনেক স্ত্রী অভিযোগ করেন, তাঁদের স্বামী বিদেশে থাকলেও সংসারের খরচ ঠিকমতো পাঠান না, স্ত্রী-সন্তানের খোঁজখবর নেন না কিংবা প্রয়োজনের সময় আর্থিক সহযোগিতা করেন না। আবার এর বিপরীত ঘটনাও রয়েছে। অনেক প্রবাসী স্বামী নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দিয়ে স্ত্রী-সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়তে দিনরাত পরিশ্রম করেন।
তবে প্রবাসী স্বামী টাকা দেন না—এমন অভিযোগকে এক কথায় সত্য বা মিথ্যা বলা যায় না। কারণ প্রতিটি পরিবারের পরিস্থিতি আলাদা। কেউ নিয়মিত টাকা পাঠিয়েও স্ত্রীর কাছ থেকে অবহেলা পান, আবার কেউ বিদেশে নানা সমস্যার কারণে চাইলেও সময়মতো টাকা পাঠাতে পারেন না।
প্রবাসীদের কষ্ট কতটা বোঝেন পরিবারের সদস্যরা?
একজন প্রবাসীকে বিদেশে থাকতে গিয়ে অনেক প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, শারীরিক পরিশ্রম, বাসাভাড়া, খাবার ও অন্যান্য খরচ মিটিয়ে দেশে টাকা পাঠাতে হয়। অনেকেই নিজের প্রয়োজন কমিয়ে পরিবারের জন্য সঞ্চয় করেন।
অথচ কখনো কখনো তাঁদের এই ত্যাগের মূল্যায়ন করা হয় না। আবার কিছু পরিবারে টাকা পাঠানো নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি ও পারিবারিক বিরোধ তৈরি হয়।
সব স্ত্রী কিংবা সব স্বামীকে একভাবে বিচার করা ঠিক নয়
কোনো কোনো ক্ষেত্রে স্ত্রীদের বিরুদ্ধে অপ্রয়োজনীয় খরচ বা স্বামীর পাঠানো অর্থের অপব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। আবার কিছু ক্ষেত্রে স্বামীরাও পরিবারের দায়িত্ব এড়িয়ে যান। এসব ঘটনা দিয়ে সব নারী বা সব পুরুষের চরিত্র বিচার করা অন্যায়।
সংসার টিকিয়ে রাখতে শুধু টাকা নয়, প্রয়োজন পারস্পরিক বিশ্বাস, সম্মান, দায়িত্ববোধ ও ভালোবাসা।
প্রবাসীদের প্রতি সম্মান থাকা জরুরি
একজন প্রবাসী শুধু নিজের জন্য বিদেশে যান না; অনেকেই পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে নিজের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলো দূরদেশে কাটিয়ে দেন। তাঁদের পরিশ্রম ও ত্যাগকে সম্মান করা উচিত। একইভাবে স্ত্রী-সন্তানদের প্রয়োজন ও নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে।
মনে রাখতে হবে, একজনের ভুলের দায় কখনো পুরো নারীসমাজ কিংবা পুরুষসমাজের ওপর চাপানো যায় না। সংসার সুন্দর রাখতে স্বামী-স্ত্রী দুজনেরই দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন।