আবারও বাড়ছে এলপিজি গ্যাসের দাম: সাধারণ মানুষের উপায় কোথায়… more

আবারও বাড়ছে এলপিজি গ্যাসের দাম: সাধারণ মানুষের রান্নার খরচ সামলানোর উপায় কোথায়?

দেশের বাজারে আবারও আলোচনায় এসেছে এলপিজি গ্যাসের দাম। ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১৮৩৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার ৬০ টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ সিলিন্ডারপ্রতি বাড়তি ২২৩ টাকা গুনতে হবে গ্রাহকদের। এর আগে প্রায় ১৬০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৮৩৭ টাকা করা হয়েছিল। অল্প সময়ের ব্যবধানে বারবার মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ পরিবারের রান্নার মাসিক বাজেটে নতুন চাপ তৈরি করছে।

তবে শুধু নির্ধারিত দামই সাধারণ মানুষের ভোগান্তির একমাত্র কারণ নয়। বাজারে অভিযোগ রয়েছে, কোথাও ১২ কেজির সিলিন্ডার ২ হাজার টাকা, কোথাও ২২০০ টাকা, এমনকি ২৫০০ টাকাতেও বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে খুচরা বিক্রেতাদের একাংশের বক্তব্য, তারাও বেশি দামে সিলিন্ডার কিনছেন। ফলে প্রশ্ন উঠছে, সরবরাহব্যবস্থার কোথায় সমস্যা, আর প্রকৃত ক্রয়মূল্য ও বিক্রয়মূল্যের মধ্যে পার্থক্য কতটুকু? এসব বিষয়ে স্বচ্ছ হিসাব ও কার্যকর নজরদারি জরুরি।

এ পরিস্থিতিতে দেশের গ্রামীণ জীবনের একটি পুরোনো অভ্যাস নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি হয়েছে। একসময় গ্রামের পরিবারগুলো রান্নার জন্য শুকনো লাকড়ি, ঝরে পড়া গাছের ডাল, বাঁশের শুকনো পাতা ও কৃষিকাজের অবশিষ্টাংশ ব্যবহার করত। এখন অনেক পরিবার এলপিজির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এসব জ্বালানি সংগ্রহের অভ্যাস অনেকটাই কমে গেছে।

প্রশ্ন হচ্ছে, আমরা কি সম্পূর্ণভাবে আমদানিনির্ভর জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছি? গ্রামগঞ্জে পড়ে থাকা শুকনো ডালপালা ও উপযুক্ত কৃষি-অবশিষ্টাংশ পরিকল্পিতভাবে সংগ্রহ করে নিরাপদ ও উন্নত চুলায় বিকল্প জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা গেলে কিছু পরিবারের গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমতে পারে। এতে পরিবারের খরচও কিছুটা বাঁচতে পারে। পাশাপাশি জমে থাকা শুকনো জৈব উপাদান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নভাবে ব্যবস্থাপনার সুযোগ তৈরি হবে। তবে সব ধরনের আবর্জনা পোড়ানো সমাধান নয়; প্লাস্টিক ও ক্ষতিকর বর্জ্য পোড়ানো পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক।

অন্যদিকে এলপিজি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে বিকল্প জ্বালানি, বায়োগ্যাস ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া দরকার। তবে এসব বিকল্প যেন মানুষের স্বাস্থ্য, বন ও পরিবেশের ক্ষতির কারণ না হয়, সেদিকেও নজর দিতে হবে।

সবশেষে বিষয়টি সরকার বনাম আমার বিতর্ক নয়। আন্তর্জাতিক বাজার, আমদানি ব্যয়, সরবরাহ, ব্যবসায়ীদের খরচ এবং ভোক্তার সামর্থ্য—সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে বাস্তবসম্মত সমাধান খুঁজতে হবে। নির্ধারিত দামে সিলিন্ডার পাওয়া নিশ্চিত করা, বাজার তদারকি এবং বিকল্প জ্বালানির পরিকল্পনা—তিনটি ক্ষেত্রেই সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। কারণ রান্নার জ্বালানি কোনো বিলাসিতা নয়, প্রতিটি পরিবারের নিত্যপ্রয়োজন।

ছবিটা এই আই দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। ছবিতে যে ঘটনা দেখানো হয়েছে বাস্তবে এরকম কোন ঘটনা ঘটেনি। ছবিটাকে তৈরি করা হয়েছে এই কথাগুলো আপনাদের কাছে পাঠানোর জন্য।

Author: Janatar Barta

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *