পরিশ্রম করলে এক দিন সফলতা আসে ইনশাআল্লাহ
একসময় স্কুলে যাওয়ার মতো জুতাও ছিল না তাঁর পায়ে। অভাবের কারণে সহপাঠীদের সামনে অপমানিত হয়ে কেঁদেছিলেন। পরে সহপাঠীরা চাঁদা তুলে তাঁকে একজোড়া জুতা কিনে দেয়। সেই ছেলেটিই একদিন ট্রাকের হেলপার হিসেবে কাজ করতে করতে জানতে পারেন, এসএসসিতে পুরো কুড়িগ্রাম জেলায় মানবিক বিভাগ থেকে একমাত্র জিপিএ-৫ পেয়েছেন তিনি!
বলছি শফিকুল ইসলামের কথা। কুড়িগ্রামের দরিদ্র পরিবারে জন্ম তাঁর। বাবা আব্দুল খালেক কাজ করতেন বিড়ি কারখানায়। পাঁচ ভাইয়ের সংসারে অভাব ছিল নিত্যসঙ্গী। সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় অর্থাভাবে পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হলেও শিক্ষকদের সহযোগিতায় বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ পান।
স্কুলজীবনে একজোড়া পোশাক পরে দিনের পর দিন কাটিয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পরও অভাব পিছু ছাড়েনি। পড়াশোনার খরচ চালাতে কখনো লিফলেট বিতরণ, কখনো কম্পিউটার অপারেটরের কাজ করেছেন। এমনকি বিসিএসের ভাইভা দেওয়ার সময়ও নতুন ফরমাল পোশাক কেনার সামর্থ্য ছিল না। তবুও হাল ছাড়েননি। অবশেষে ৩৫তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হন।
চাকরিতে যোগ দেওয়ার আগে বাড়ি ফিরে দেখেন, ঘরের চালের ফুটো দিয়ে জোছনার আলো এসে পড়ছে ভাতের থালায়। যে ঘরে একসময় অভাবে পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছিল, সেই ঘর থেকেই একদিন বিসিএস ক্যাডার হয়ে বেরিয়ে এলেন তিনি।
যে বাবার পক্ষে ছেলেকে একজোড়া জুতা কিনে দেওয়া সম্ভব ছিল না, সেই বাবার ছেলেই একদিন নিজের উপার্জনে পরিবারের দুঃখ ঘোচানোর স্বপ্ন পূরণ করলেন। একসময় যার পায়ে জুতা ছিল না, আজ তাঁর কাঁধে দেশের শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গড়ার দায়িত্ব।
শফিকুল ইসলামের জীবনসংগ্রাম প্রমাণ করে, দারিদ্র্য কখনো স্বপ্ন দেখার অধিকার কেড়ে নিতে পারে না। ইচ্ছাশক্তি আর পরিশ্রম থাকলে প্রতিকূলতা পেরিয়েও সফল হওয়া সম্ভব।
আপনার জীবনে এমন কেউ আছেন, যিনি অভাবের সঙ্গে যুদ্ধ করে নিজের ভাগ্য বদলেছেন? কমেন্টে তাঁর গল্প জানান।