অপ্রতিমকে ফাঁসানোর চেষ্টা হচ্ছে, ছেলের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে ক্ষুব্ধ বাবা-মা
কুমিল্লার নিহত স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের তথ্য ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তার পরিবারের সদস্যরা। পরিবারের অভিযোগ, বিভিন্ন ফেসবুক আইডি থেকে অপ্রতিমকে অপরাধী হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে এবং তাকে ফাঁসানোর নানা প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
অপ্রতিমের মা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম বলেছেন, বিভিন্ন ফেসবুক আইডি থেকে তাঁর ছেলেকে নানা উপায়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি এমন প্রচেষ্টার প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, তাঁর সন্তানকে অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন করা কোনোভাবেই মেনে নেবেন না।
এর আগে অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারও সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ছেলের নিখোঁজ হওয়া এবং পরে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা নিয়ে নিজের সন্দেহের কথা জানান। তিনি বলেন, কয়েকজন সিনিয়র বন্ধু তাঁর ছেলের দুর্বলতা ও স্নেহের সুযোগ নিয়ে কোনো স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে তাকে ডেকে নিয়ে যেতে পারেন—তবে এটিকে তিনি নিজের ধারণা হিসেবেই উল্লেখ করেছেন।
অপ্রতিম শুক্রবার বাসা থেকে বের হওয়ার পর আর ফিরে আসেনি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে পুলিশ ও স্বজনরা সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে তার চলাচলের পথ অনুসন্ধান করেন। শেষ পর্যন্ত কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছের লালমাই পাহাড়ের জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ঘটনাটি তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ ইতোমধ্যে কয়েকজনকে হেফাজতে নিয়েছে এবং হত্যাকাণ্ডের পেছনে আইফোন, টাকা-পয়সা ও বয়সে বড় কয়েকজনের সঙ্গে অপ্রতিমের সম্পর্কসহ বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখছে। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তদন্তকারীরা বিভিন্ন আলামত ও জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ জানার চেষ্টা করছেন।
এদিকে অপ্রতিমকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ছবি, ভিডিও এবং নানা ধরনের মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ায় পরিবারটি আরও ক্ষুব্ধ হয়েছে। তাঁর মায়ের বক্তব্য অনুযায়ী, এসব পোস্টের মাধ্যমে নিহত শিশুটিকেই অপরাধী হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
তবে অপ্রতিমকে ‘ফাঁসানোর’ অভিযোগটি পরিবারের বক্তব্য ও সন্দেহের অংশ। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এটিকে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে বলা যাচ্ছে না। একইভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া যেকোনো দাবি যাচাই ছাড়া সত্য হিসেবে প্রচার করাও বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে।
অপ্রতিমের পরিবারের মূল দাবি—ঘটনাটির নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা সামনে আনা এবং যারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত, তাদের আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করা। সন্তান হারানোর পর পরিবারটি এখন তদন্তের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে আছে।