অপ্রতিমের বাবা গণমাধ্যমকে জানাই তার ছেলেকে শুধু iphone এর জন্য না তার মায়ের উপর… See more

অপ্রতিমের বাবা গণমাধ্যমে যা জানালেন, শুধু আইফোনের জন্য নয়—মায়ের ওপর প্রতিশোধের প্রশ্নও সামনে
কুমিল্লায় ১৩ বছর বয়সী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় একের পর এক নতুন তথ্য সামনে আসছে। শুরুতে পরিবারের পক্ষ থেকে ধারণা করা হয়েছিল, মায়ের আইফোন নিয়ে বের হওয়ার কারণেই হয়তো অপ্রতিমকে টার্গেট করা হয়েছিল। কিন্তু তদন্ত এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের পেছনে আরও কোনো কারণ ছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার প্রথম দিকে ছেলের মরদেহ পাওয়ার পর গণমাধ্যমের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাঁর বক্তব্যে আইফোনের বিষয়টি উঠে আসে। তিনি বলেন, তাঁর ছেলে কোনো অপরাধ করেনি এবং ফোনটি নেওয়ার জন্যই তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে তাঁর ধারণা।

তবে পরবর্তী সময়ে তদন্তে আরও একটি সম্ভাব্য দিক সামনে এসেছে—অপ্রতিমের মা নাহিদা বেগমের সঙ্গে আগে কোনোভাবে বিরোধে জড়িত ব্যক্তিদের সঙ্গে এই হত্যাকাণ্ডের যোগসূত্র ছিল কি না।

গণমাধ্যমের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানা গেছে, অপ্রতিমের মা নাহিদা বেগম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালনকালে একটি মাদকবিরোধী অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। প্রায় দেড় বছর আগে ওই অভিযানে মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদসহ কয়েকজন কিশোরকে আটক করা হয়েছিল। বর্তমানে অপ্রতিম হত্যা মামলার অন্যতম প্রধান আসামি হিসেবে ফাহাদের নাম এসেছে। ফলে ওই পুরোনো ঘটনার সঙ্গে বর্তমান হত্যাকাণ্ডের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তকারীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।

এখন প্রশ্ন উঠছে—অপ্রতিমকে কি কেবল একটি আইফোনের জন্য হত্যা করা হয়েছিল, নাকি এর পেছনে আরও কোনো উদ্দেশ্য ছিল?

তবে এখানে একটি বিষয় স্পষ্টভাবে মনে রাখা জরুরি। পুলিশের তদন্তে এখন পর্যন্ত একাধিক সম্ভাব্য কারণের কথা উঠে এসেছে। আইফোন, পাঁচ হাজার টাকা নিয়ে বিরোধ এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কসহ বিভিন্ন বিষয় তদন্তের আওতায় রয়েছে বলে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। তাই কোনো একটি কারণকে এখনই চূড়ান্ত হত্যার উদ্দেশ্য হিসেবে ধরে নেওয়া যাচ্ছে না।

ঘটনার দিন অপ্রতিম মায়ের ব্যবহৃত আইফোন নিয়ে বাসা থেকে বের হয়েছিল। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে সে বের হয়। পরে সন্ধ্যার দিকে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজির পর পরদিন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের সানন্দা এলাকার লালমাই পাহাড়ের জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার মুখ ও কপালে আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং সঙ্গে থাকা আইফোনটি পাওয়া যায়নি।

পরে পুলিশ তদন্ত করে অপ্রতিমের সঙ্গে থাকা আইফোনটি উদ্ধার করেছে বলে জানিয়েছে। এ ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আরও একজনের সম্পৃক্ততা যাচাই করা হচ্ছে। ফলে তদন্তকারীরা শুধু ফোন উদ্ধারের ঘটনাই নয়, আসামিদের সঙ্গে অপ্রতিমের পরিবার ও তার মায়ের পূর্বপরিচয় বা কোনো বিরোধ ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছেন।

আরও একটি বিষয় তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের মাত্র ১০ দিন আগে অপ্রতিমের বাবার প্রতিষ্ঠানে মামলার অন্যতম আসামি ফাহাদ কাজ নিয়েছিলেন বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর তাকে খোঁজার ক্ষেত্রেও ফাহাদ সক্রিয় ছিলেন বলে একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এসব তথ্যের মধ্যে কোনো যোগসূত্র আছে কি না, সেটিও তদন্তের বিষয়।

এদিকে নাহিদা বেগমের নেতৃত্বে আগের মাদকবিরোধী অভিযানে ফাহাদ আটক হওয়ার বিষয়টি সামনে আসার পর “প্রতিশোধ” তত্ত্বটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে এটি এখনো একটি তদন্তাধীন সম্ভাবনা—আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা আদালতের পক্ষ থেকে এটিকে চূড়ান্ত হত্যার উদ্দেশ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়নি।

অপ্রতিমের পরিবারের জন্য ঘটনাটি যে কতটা বেদনাদায়ক, তা তাঁর বাবার বক্তব্যেই স্পষ্ট। ছেলেকে হারানোর পর তিনি বারবার বলেছেন, তাঁর সন্তান কোনো অন্যায় করেনি। আইফোনের মতো একটি জিনিসের জন্য ১৩ বছরের শিশুকে প্রাণ দিতে হবে—এটি মেনে নিতে পারছেন না তিনি।

Author: Janatar Barta

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *