ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসির আ.লীগ নিয়ে অডিও ফাঁস হতেই তোলপাড়, যা জানা গেল
রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিবুল হাসানকে ঘিরে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিও রেকর্ড নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ওই অডিওতে একজনকে সরকার, পুলিশ, প্রশাসন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করতে শোনা যায় বলে সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
অডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর ১৭ সেপ্টেম্বর রাকিবুল হাসানকে ক্যান্টনমেন্ট থানা থেকে প্রত্যাহার করে ডিএমপি সদরদপ্তরের প্রশাসন বিভাগে সংযুক্ত করা হয়। ডিএমপি তখন জানায়, বিষয়টি প্রশাসনিকভাবে দেখা হচ্ছে এবং অডিওটির বক্তব্য পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অডিওতে কী শোনা যায়?
প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, অডিওতে থাকা ব্যক্তি নিজেকে একজন ওসি হিসেবে পরিচয় দেন এবং পুলিশের মাঠপর্যায়ের সক্ষমতা নিয়ে মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রসঙ্গও তোলা হয়।
অডিওতে ওই ব্যক্তির কণ্ঠে এমন বক্তব্য শোনা যায় যে শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে পুলিশ তাঁকে ঠেকাতে পারবে না। পাশাপাশি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক অবস্থান এবং পুলিশের বিভিন্ন পদে বদলি-পদায়ন নিয়ে অর্থ লেনদেনের অভিযোগও করা হয়।
তবে এসব অভিযোগ অডিওতে বলা হয়েছে বলেই সেগুলো সত্য বা প্রমাণিত হয়ে যায় না। ডিএমপি বিষয়টি তদন্তের জন্য কমিটি গঠন করেছিল এবং অডিওটির সত্যতা ও উৎস যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
ওসি রাকিবুলের পাল্টা দাবি
অডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর রাকিবুল হাসান তাঁর বিরুদ্ধে ছড়িয়ে পড়া বক্তব্যের বিষয়ে ভিন্ন দাবি করেন। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনি ফেসবুক পোস্টে অডিওটিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে বলে দাবি করেছিলেন। একই প্রতিবেদনে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, অডিওটির সত্যতা তারা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।
অর্থাৎ শুরুতে বিষয়টি ছিল একটি ভাইরাল অডিওকে ঘিরে অভিযোগ ও পাল্টা দাবির ঘটনা। এ কারণেই অডিওতে থাকা প্রতিটি বক্তব্যকে সরাসরি বাস্তব ঘটনা হিসেবে গ্রহণ করার সুযোগ ছিল না।
পরে ডিবি হেফাজত ও তদন্ত
অডিও ছড়িয়ে পড়ার পর রাকিবুল হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। ডিএমপি তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করে, যেখানে সাইবার অপরাধ সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তাকে রাখা হয়েছিল। অডিওটি আসল কি না এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো যাচাই করাই ছিল তদন্তের অন্যতম উদ্দেশ্য।
পরবর্তীতে বিষয়টি আরও গুরুতর আইনি পর্যায়ে যায়। ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর প্রতিবেদনে দ্য ডেইলি স্টার জানায়, রাকিবুল হাসানকে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ঢাকার একটি আদালত তাঁকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, মামলাটি দণ্ডবিধির ১৫৩ ও ১২৪-এ ধারায় করা হয়েছে।
জনগণের মধ্যে কেন এত আলোচনা?
অডিওতে একজন পুলিশ কর্মকর্তার কণ্ঠে রাজনৈতিক পরিস্থিতি, পুলিশের সক্ষমতা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে বক্তব্য শোনা যাওয়ার দাবিই মূলত মানুষের আগ্রহের কারণ হয়ে ওঠে।
বিশেষ করে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রসঙ্গ, পুলিশের ভূমিকা এবং আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এর সঙ্গে যুক্ত হয় পুলিশের বদলি-পদায়ন ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাশাপাশি জাতীয় রাজনৈতিক আলোচনার অংশ হয়ে যায়।
তবে এখানে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—অডিওতে কোনো অভিযোগ বা রাজনৈতিক মন্তব্য থাকা এবং সেই অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়া এক বিষয় নয়। পুলিশের তদন্ত, ফরেনসিক পরীক্ষা এবং আদালতের কার্যক্রমের মাধ্যমে কোন বক্তব্যের সত্যতা আছে কি না, সেটিই শেষ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।