বাপ কা বেটি..!জাতিসংঘে জাইমা রহমানের…See More

জাতিসংঘের নিয়ম অনুযায়ী, যখন কোনো দেশের প্রতিনিধি সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন, তখন তিনি তাঁর ১ বছর মেয়াদের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সম্পূর্ণ নিজস্ব একটি বিশেষ দল গঠন করেন। এই দলের কর্মকর্তাদের সরাসরি বাছাই করার বা নিয়োগ দেওয়ার মূল ক্ষমতা বা এখতিয়ার কিন্তু খোদ সভাপতির হাতেই থাকে। এবারের সভাপতি যেহেতু আমাদের দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, তাই তিনি তাঁর ৪০ জনের টিমে জাইমা রহমানসহ ৬ জন যোগ্য বাংলাদেশিকে স্থান দিয়েছেন।

জাতিসংঘের এই ধরনের আইনি ও নীতিগত পদে কাজ করতে গেলে ইন্টারন্যাশনাল মানের শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা মাস্ট।

জাইমা রহমানের কিন্তু পড়াশোনার প্রোফাইল বেশ স্ট্রং……!তিনি লন্ডনের অন্যতম সেরা কুইন মেরি ইউনির্ভাসিটি অব লন্ডন থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।এরপর যুক্তরাজ্য থেকেই সফলভাবে ‘বার-অ্যাট-ল’ ডিগ্রি সম্পন্ন করেন

এমনকি এই তো গত ২০২৬ সালের জুন মাসে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের আইনজীবী তালিকাভুক্তির প্রথম ধাপের প্রিলিমিনারি পরীক্ষাতেও তিনি উত্তীর্ণ হয়েছেন।

তাই ইন্টারন্যাশনাল ল’ বা আইনি বিষয়গুলো দেখভাল করার জন্য তিনি পুরোপুরি যোগ্য ছিলেন।

অনেকেই হয়তো ভাবেন জাতিসংঘের সব ফাণ্ড ও স্টাফ নিয়োগ বুঝি সরাসরি ওরাই করে। কিন্তু মজার বিষয় হলো, সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের বেতন, আবাসন ও আনুষঙ্গিক খরচ সাধারণত সংশ্লিষ্ট সভাপতির নিজের দেশ বা তাদের সরকার বহন করে।

বাংলাদেশ যেহেতু এখন সভাপতি দেশ, তাই এই কার্যালয়ে কর্মকর্তা নিয়োগের ক্ষেত্রে বর্তমান বাংলাদেশ সরকারের মানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রত্যক্ষ সম্মতি ও রাষ্ট্রীয় নীতিগত সিদ্ধান্তের বিষয়টি বড় ভূমিকা রেখেছে।

দাদা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, দাদি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, আর বাবা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমাননএমন ঐতিহাসিক রাজনৈতিক রক্তের উত্তরাধিকারী হয়ে আন্তর্জাতিক কূটনীতির মঞ্চে জাইমা রহমানের এই এন্ট্রি জাস্ট দেখার মতো ছিল!

যাঁরা লবিং আর স্বজনপ্রীতির খোঁড়া যুক্তি খুঁজছিলেন, তাঁরা জেনে রাখুন, বিশ্বমঞ্চে সুযোগ পেতে মেধা যেমন লাগে, তেমনি কুইন মেরি থেকে ব্যারিস্টারি করা যোগ্যতার জোরও লাগে।

জাইমা রহমান তো আছেনই, তাঁর পাশাপাশি এই টিমে আরও ৫ জন নামকরা বাংলাদেশি আছেন।

মোহাম্মদ আবদুল আলিম, ডেপুটি চিফ অব ক্যাবিনেট এই টিমের সর্বোচ্চ পদমর্যাদার বাংলাদেশি কূটনীতিক।মোয়াজ্জেম হোসেন, উপদেষ্টা ও প্রশাসনিক সহকারী।মফিজুল ইসলাম, তথ্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং কৌশলগত দূরদর্শিতা বিষয়ক সিনিয়র উপদেষ্টা।জাকির আহমেদ, টেকসই উন্নয়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সিনিয়র উপদেষ্টা।মো. রফিকুল আলম মোল্লা, স্বল্পোন্নত ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন দেশসমূহ বিষয়ক সিনিয়র উপদেষ্টা।

সব মিলিয়ে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের এই অংশগ্রহণ আর তরুণ প্রজন্মের এমন বড় অর্জন সত্যিই দারুণ এক ব্যাপার। ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের এই নতুন পথচলার জন্য রইলো অনেক অনেক শুভকামনা!

Author: Janatar Barta

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *