ফরিদপুরের নগরকান্দায় শিশু সন্তানকে ফাঁস দেওয়ার চেষ্টা করে সেই ঘটনার ভিডিও নিজেই ধারণ করার অভিযোগ উঠেছে এক নারীর বিরুদ্ধে। ৫৯ সেকেন্ডের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে অভিযান চালিয়ে ওই নারীকে আটক করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে তাঁর দুই সন্তানকেও পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের রাধানগর গ্রামে। আটক নারী বিথী আক্তার (৩০)। তিনি ওই গ্রামের ওমানপ্রবাসী আব্বাস আলীর স্ত্রী।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, ঘরের বাঁশের আড়ায় ওড়না ঝুলিয়ে শিশুটিকে ধরে ভিডিও ধারণ করছেন ওই নারী। একপর্যায়ে শিশুটির গলায় ওড়না পেঁচানোর চেষ্টা করলে শিশুটি কান্নাকাটি করে চিৎকার করতে থাকে। শিশুটির চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে দরজায় আঘাত করতে থাকেন। পরে স্থানীয়দের চিৎকার-চেঁচামেচিতে শিশুটিকে ছেড়ে দেন ওই নারী।
ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে। নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানী আজাদ জানান, ভিডিওটি শনাক্ত হওয়ার পর পুলিশের একাধিক দল অনুসন্ধান শুরু করে। পরে ঘটনাস্থল শনাক্ত করে পুলিশ সেখানে গিয়ে বিথী আক্তারকে আটক করে এবং তাঁর দুই সন্তানকে হেফাজতে নেয়।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই নারী জানিয়েছেন, তাঁর স্বামী আব্বাস আলী দীর্ঘ আট বছর ধরে বিদেশে অবস্থান করছেন এবং দেশে আসেন না। স্বামীকে পাঠানোর জন্যই তিনি এমন ঘটনার ভিডিও ধারণ করেছিলেন বলে দাবি করেছেন।
তবে ঘটনার পেছনে প্রকৃত কারণ কী, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়াও চলছে বলে জানিয়েছে নগরকান্দা থানা পুলিশ