অ’/শ্লীল’তার সবচেয়ে ভ’/য়ংকর দিক হলো এটাকে…See More

অশ্লীলতার সবচেয়ে ভয়ংকর দিক হলো এটাকে এতভাবে আমাদের সামনে দেখানো হয় যে একসময় অশ্লীলতাকে আর অশ্লীল বলেই মনে হয় না।

লায়লা এখন নতুন একজন অল্পবয়সী ছেলেকে নিয়ে কনটেন্ট করছেন এবং বলছেন, তিনি তাকে বিয়ে করেছেন। অনেকে এটাকে নিছক মজা বা ফানি কনটেন্ট হিসেবে দেখছেন।

কিন্তু একটু অন্যভাবে ভাবুন।

আজ আপনার সন্তান এই কনটেন্ট দেখছে। কাল সে যদি এমন সম্পর্ককেই স্বাভাবিক বা অনুসরণযোগ্য মনে করে, তখন বিষয়টাকে আপনি কীভাবে দেখবেন?

একজন মেয়ে নিজের চেয়ে অনেক বেশি বয়সী কোনো পুরুষকে টাকার জন্য বিয়ে করলে আমাদের সমাজে বাবা-মাকে কত কথা শুনতে হয়! অথচ একজন ছেলে যদি একই ধরনের সম্পর্ক তৈরি করে, তখন অনেক সময় সেটাই ‘মজা’, ‘ফানি’ বা ‘কনটেন্ট’ হয়ে যায়।

প্রশ্নটা বয়সের পার্থক্য নিয়ে নয়। প্রশ্নটা হলো আমরা কী ধরনের আচরণকে বারবার বিনোদনের নামে স্বাভাবিক করে তুলছি?

কারণ শিশুরা শুধু বই থেকে শেখে না। তারা চারপাশ দেখে শেখে। সোশ্যাল মিডিয়া দেখে শেখে। বড়দের আচরণ দেখে শেখে।

আজ যে আচরণকে আপনি হাসতে হাসতে স্ক্রল করে চলে যাচ্ছেন, কাল সেটাই কোনো কিশোরের কাছে স্বাভাবিক আচরণ বলে মনে হতে পারে। এমনকি নারীদের নিয়ে অশালীন মন্তব্য, ইভ টিজিং কিংবা অসম্মানজনক আচরণও যদি বারবার বিনোদনের অংশ হিসেবে সামনে আসে, সেটার প্রভাব সমাজের ওপর পড়তেই পারে।

সমাজে খারাপ জিনিসগুলো একদিনে স্বাভাবিক হয় না। প্রথমে মানুষ দেখে অবাক হয়। তারপর হাসে। তারপর অভ্যস্ত হয়ে যায়। একসময় আর প্রশ্নই করে না।

তাই কনটেন্ট মানেই শুধু ‘মজা’ নয়। কিছু কনটেন্টের সামাজিক প্রভাব নিয়েও আমাদের ভাবতে হবে।

কারণ আমরা আজ যা স্বাভাবিক করে তুলছি, আগামী প্রজন্ম সেটাকেই হয়তো স্বাভাবিক পৃথিবী বলে চিনবে।

এসব অশ্লীল কাজের জন্যে রাষ্ট্রের উচিত কোনো আইন করা যেখানে চাইলেই কেউ এমন অশ্লীলতা করতে পারবে না৷

Author: Janatar Barta

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *