মাত্র ১৭ দিনের! এই মাত্র ১৭ দিনের অনলাইন পরিচয়ের ওপর ভরসা করে কক্সবাজার চলে যায়!! কি সাংঘাতিক!!
কক্সবাজারের একটা হোটেলের বয় রাজুর সাথে তাজমিনের পরিচয় ইন্সটাগ্রামে/ফেসবুকে।
তাও মাত্র কয়েকদিনের!
একটা ঘড়ি বান্ধবিকে দেওয়া নিয়ে মা একটু বকাবকি করেছে, আর তাতেই রাগ করে ১৫ বছরের একটা মেয়ে ঘর ছেড়ে সোজা চলে গেল কক্সবাজার! সেখানে রাজুর সাথে এক-দুই রাত হোটেলেও থাকলো। আবার সেখানে সে নাম দিয়েছিল তানজু আক্তার।
এরপর রাজু তাকে বাসে তুলে দিল, সে কুমিল্লা নামলো নূরজাহান হোটেলের সামনে, আর তারপরই সেই সিএনজি চালকের নি**তনের শিকার হয়ে দুনিয়াটাই ছেড়ে চলে গেল….🙂
অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি তো হতেই হবে, এটা নিয়ে কোনো ডাউট নাই। কিন্তু আমার খটকাটা লাগছে অন্য জায়গায়….তাজমিনের ফ্যামিলির রোলটা নিয়ে!
আমাদের নিজেদের স্কুল লাইফের কথা একটু মনে করে দেখেন তো? প্রাইভেট বা স্কুল থেকে ফিরতে আধা ঘণ্টা দেরি হলে মায়ের কী অবস্থা হতো? একদম কলিজা শুকিয়ে যেত। বাসায় ঢুকলেই জেরার মুখে পড়তে হতো, উল্টাপাল্টা উত্তর দিলে কপালে দুই-চারটা চ*-ড়-থা*- প্পড় বা কড়া শাসন জুটতোই। সেই ভয়েই তো আমরা তটস্থ থাকতাম যে তাড়াতাড়ি বাসায় ফিরতে হবে!
অথচ তাজমিনের ক্ষেত্রে সিনারিওটা দেখেন। মেয়েটা ঘর থেকে উধাও হয়ে গেল, কুমিল্লা থেকে কক্সবাজার চলে গেল, ফ্যামিলির কেউ একটা জিডি পর্যন্ত করলো না থানায় গিয়ে! সন্তান নিখোঁজ হলে সাধারণ মা-বাবার যে পাগলের মতো অবস্থা হয়, সেটা কোথায় ছিলো? পুরো ব্যাপারটাই কেমন যেন তাদের কাছে নরমাল একটা বিষয় মনে হয়েছে!
সিসিটিভি ফুটেজ বা হোটেলের ফুটেজে তাজমিনকে দেখে কিন্তু মোটেও কোনো ভিতু বা নাবালিকা টাইপ বাচ্চা মনে হয়নি। বেশ কনফিডেন্টলি সে মুভ করছিল। তার মা মিডিয়াতে এসে বলছেন, বান্ধবীর স্বভাব খারাপ ছিল তাই তাকে স্কুলে যেতে দিতেন না।
ভাইরে ভাই, যদি এতই নজরদারি থাকতো, তাহলে আপনার মেয়ে ঘর ছেড়ে কক্সবাজার চলে গেল আর আপনারা টেরই পাইলেন না?
সোজা বাংলায় বললে, তাজমিনের উপর তার মা-বাবার কোনো নিয়ন্ত্রণই ছিল না। সন্তানদের সাথে আমাদের মা-বাবাদের এই যে একটা বিশাল গ্যাপ তৈরি হচ্ছে, অনলাইন দুনিয়ার মাত্র কয়েকদিনের একটা ফেক মোহের টানে একটা মেয়ে ঘর ছেড়ে দিচ্ছে…!!
এইটার দায় কে নেবে?
আমার অবাক লাগলো, ওর অভিভাবকদের এই অদ্ভুত উদাসীনতা আর রেসপন্স নিয়ে।
আইন অপরাধীদের সাজা দেবে ঠিকই, কিন্তু সমাজ আর পরিবার হিসেবে আমাদের কি একটুও হুঁশ ফিরবে না? সন্তানদের সাথে ফ্রেন্ডলি হওয়া ভালো, কিন্তু তাদের উপর কোনো হোল্ড বা শাসন না থাকাটা যে কতটা ডেঞ্জারাস হতে পারে, তাজমিনের ঘটনা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে গেল।
আপনার কী মনে হয়? কমেন্টে জানান।