অপ্রতিমের মা গণমাধ্যমকে জানালেন, ছেলেকে হত্যার পেছনে থাকতে পারে আরও দুই কারণ
কুমিল্লার ১৩ বছর বয়সী স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ড নিয়ে তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে নতুন নতুন তথ্য ও প্রশ্ন। পুলিশের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে বলা হয়েছে, মায়ের আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে অপ্রতিমকে নির্জন এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে তাকে হত্যা করা হয়। তবে অপ্রতিমের মা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগম মনে করছেন, শুধু আইফোন নয়—তার ছেলেকে হত্যার পেছনে আরও কারণ থাকতে পারে।
সম্প্রতি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে অপ্রতিম হত্যার বিচার দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে তাঁর মায়ের সন্দেহের বিষয়গুলো তুলে ধরেন তাঁর সহকর্মী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। সেখানে বলা হয়, অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ঘটনার কয়েক দিন আগে এক কিশোর কাজ নিয়েছিল। ওই কিশোরের সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখার দাবি জানিয়েছেন অপ্রতিমের মা।
কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে পুরোনো বিরোধের সন্দেহ
অপ্রতিমের মা আরও একটি বিষয় তদন্তের আওতায় আনার কথা বলেছেন। তিনি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারী প্রক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সময় মাদকবিরোধী অভিযানে কয়েকজন কিশোর গ্যাং সদস্যকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছিলেন।
নাহিদা বেগমের দাবি, গ্রেপ্তার হওয়া প্রধান আসামি সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিন ওই কিশোর গ্যাংয়ের নেতৃত্বে ছিলেন। ফলে সেই পুরোনো ঘটনার সঙ্গে অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করছেন।
তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই দুই বিষয়কে এখনো হত্যাকাণ্ডের নিশ্চিত কারণ হিসেবে পুলিশ বা আদালত ঘোষণা করেনি। এগুলো অপ্রতিমের মায়ের সন্দেহ এবং তদন্তের দাবি হিসেবে সামনে এসেছে।
পুলিশের তদন্তে আইফোনের বিষয়টি সামনে
অন্যদিকে পুলিশ এখন পর্যন্ত যে তথ্য জানিয়েছে, তাতে অপ্রতিমকে তাঁর মায়ের আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে নির্জন এলাকায় নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অপ্রতিম বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে মায়ের আইফোন নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল। পরে তাকে কুমিল্লার লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ফোন দিতে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে ধস্তাধস্তি হয় এবং একপর্যায়ে তাকে বাঁশের লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের পর এ ঘটনায় একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং এর সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না, তা বের করার চেষ্টা চলছে।
শুধু আইফোনের কারণ নিয়ে প্রশ্ন
এদিকে অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে পুলিশের দেওয়া ‘আইফোন ছিনিয়ে নেওয়া’ কারণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একটি অংশও। তাঁদের বক্তব্য, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের জীবনযাপন, তাদের কাছে থাকা দামি ফোন ও মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য বিষয়ও তদন্তে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
এরই মধ্যে তদন্তে অপ্রতিমের আইফোন ছাড়াও ৫ হাজার টাকা ধার নিয়ে বিরোধের একটি বিষয় সামনে এসেছে বলে কয়েকটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তসংশ্লিষ্টদের ধারণা, ওই আর্থিক বিরোধেরও কোনো ভূমিকা ছিল কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। তবে এটিও এখনো তদন্তাধীন।
ফলে অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পেছনে আসলে একটি কারণ ছিল, নাকি একাধিক ঘটনা একসঙ্গে কাজ করেছে—তা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।
মায়ের প্রশ্ন, তদন্তে সব দিক দেখা হোক
সন্তান হারানোর পর অপ্রতিমের মা নাহিদা বেগমের অবস্থান হলো—হত্যাকাণ্ডকে শুধু একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা হিসেবে দেখলে তদন্তের অন্য সম্ভাব্য দিকগুলো বাদ পড়ে যেতে পারে।
তাঁর সন্দেহ, অতীতের কিছু ঘটনা, বাবার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে নতুন কর্মী হিসেবে ওই কিশোরের যোগ দেওয়া এবং কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে পুরোনো বিরোধ—এসবের কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা তদন্তে যাচাই করা প্রয়োজন।
একই সঙ্গে গ্রেপ্তার হওয়া কয়েকজনের বয়স নিয়েও তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেছেন এবং তাদের প্রকৃত বয়স যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন।
শেষ কথা
অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে এখন পর্যন্ত আইফোন ছিনিয়ে নেওয়া, ৫ হাজার