দুই ম’ন্ত্রীকে বাদ দেওয়া হতে পারে…See More

সরকারের ছয় মাস পূর্তিকে কেন্দ্র করে ২০২৬ সালের জুলাইয়ে মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের পরিবর্তনের আলোচনা শুরু হয়েছিল। তখন বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে খবর প্রকাশিত হয়, কয়েকজন মন্ত্রীর দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের পাশাপাশি অন্তত দুই মন্ত্রীকে মন্ত্রিসভা থেকে বাদ দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা চলছে। তবে সে সময় সরকারের পক্ষ থেকে কাউকে বাদ দেওয়ার বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছিল, মন্ত্রীদের প্রথম ছয় মাসের কর্মকাণ্ড, প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অগ্রগতি পর্যালোচনার ভিত্তিতে পরিবর্তন আনার বিষয়টি বিবেচনায় ছিল। একই সঙ্গে একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা কয়েকজন মন্ত্রীর কাজের চাপ কমানো এবং দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের বিষয়ও আলোচনায় ছিল।

কেন রদবদলের আলোচনা?
সরকার গঠনের ছয় মাস পর মন্ত্রণালয়গুলোর কার্যক্রম পর্যালোচনার বিষয়টি সামনে আসে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে বলা হয়, যেসব মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম প্রত্যাশিত গতিতে এগোচ্ছে না বা মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি রয়েছে, সেসব জায়গায় পরিবর্তন আনার কথা বিবেচনা করা হয়েছিল।

এ ছাড়া কয়েকজন মন্ত্রী একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছিলেন। ফলে তাদের দায়িত্ব কমিয়ে অন্যদের মধ্যে কিছু দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় আসে।

তবে কোন দুই মন্ত্রীকে বাদ দেওয়া হবে—এমন নির্দিষ্ট নাম ওই সময়ের নির্ভরযোগ্য প্রতিবেদনগুলোতে নিশ্চিতভাবে জানানো হয়নি। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো নির্দিষ্ট মন্ত্রীর নাম দিয়ে “তাকে বাদ দেওয়া হচ্ছে” ধরনের পোস্ট ছড়ালে সেটিকে নিশ্চিত খবর হিসেবে নেওয়ার সুযোগ ছিল না।

পরে কী সিদ্ধান্ত হয়েছে?
জুলাইয়ে আলোচনা হওয়ার পর ২১ আগস্ট ২০২৬ মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়। ওই দিন চার নতুন মন্ত্রী ও দুই প্রতিমন্ত্রী শপথ নেন এবং তাদের দায়িত্ব বণ্টন করে প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

নতুন পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান ড. আবদুল মঈন খান, আন্দালিব রহমান পার্থ, সাচিং প্রু জেরী এবং এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। পাশাপাশি হুমায়ুন কবির ও মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।

এর মধ্যে রশিদুজ্জামান মিল্লাত আগে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। পরে তিনি পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব পান।

মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বেও পরিবর্তন
২১ আগস্টের পরিবর্তনের মাধ্যমে শুধু নতুন সদস্য যুক্ত হয়নি, কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বেও পরিবর্তন আসে। ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। আন্দালিব রহমান পার্থ তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান এবং সাচিং প্রু জেরীকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। রশিদুজ্জামান মিল্লাত পান বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ দায়িত্ব।

এ ছাড়া আফরোজা খানম রিতার দায়িত্বেও পরিবর্তন আসে। তিনি আগে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন; পরে তাকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

তাহলে ‘দুই মন্ত্রী বাদ’ খবরটি কতটা সত্য?
এখানে সময়ের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। জুলাইয়ে ‘দুই মন্ত্রীকে বাদ দেওয়া হতে পারে’—এমন আলোচনা সত্যিই সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল, কিন্তু সেটি ছিল সম্ভাব্য পরিবর্তন নিয়ে সূত্রনির্ভর খবর; কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ঘোষণা নয়।

পরবর্তীতে ২১ আগস্ট মন্ত্রিসভায় রদবদল ও সম্প্রসারণ হয়েছে। ফলে পুরোনো ওই শিরোনামকে এখন নতুন করে “দুই মন্ত্রীকে বাদ দেওয়া হচ্ছে” হিসেবে প্রচার করলে সময়ের প্রেক্ষাপট বাদ পড়ে যাবে।

এখনও ভবিষ্যতে আরও পরিবর্তন হতে পারে কি না—তা নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা থাকলেও, কাকে বাদ দেওয়া হবে বা নতুন করে কার দায়িত্ব পরিবর্তন হবে, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত ছাড়া নিশ্চিতভাবে কোনো নাম বলা যায় না।

মন্ত্রিসভায় আরও পরিবর্তন হতে পারে?
২১ আগস্টের রদবদলের পরও কিছু প্রতিবেদনে আরও পরিবর্তনের সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিবেদনে একজন মন্ত্রীর বক্তব্যের বরাতে বলা হয়েছিল, অন্তত সাত-আটটি মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম মন্থর এবং সেসব মন্ত্রণালয়ে পরিবর্তন আসতে পারে। একই প্রতিবেদনে একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা কয়েকজনের দায়িত্ব কমানোর সম্ভাবনার কথাও বলা হয়।

তবে এগুলোও সম্ভাবনা ও সূত্রনির্ভর আলোচনা, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়।

শেষ কথা
সুতরাং, “দুই মন্ত্রীকে বাদ দেওয়া হতে পারে” শিরোনামের পেছনে ২০২৬ সালের জুলাইয়ে মন্ত্রিসভা রদবদল নিয়ে প্রকাশিত সূত্রনির্ভর আলোচনা রয়েছে। পরে ২১ আগস্ট মন্ত্রিসভায় চার নতুন মন্ত্রী ও দুই প্রতিমন্ত্রী যুক্ত হয়েছেন এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বেও পরিবর্তন হয়েছে।

তবে ঠিক কোন দুই মন্ত্রীকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল বা হবে—এমন কোনো নিশ্চিত সরকারি তালিকা প্রকাশিত হয়নি। তাই নির্দিষ্ট নাম ছড়িয়ে পড়লে তা সরকারি প্রজ্ঞাপন বা প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা জরুরি।

Author: Janatar Barta

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *