Dhaka ১১:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৭২ ঘন্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যে-সব এলাকায়…RT

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:৩৬:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
  • ৪০৩ Time View

কালবৈশাখী ঝড়ে লণ্ডভণ্ড পল্লী বিদ্যুতের সংযোগ। আর এ কারণে টানা ৭২ ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎহীন কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন গ্রামীণ জনপদ। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ায় জনজীবনে নেমে এসেছে নজিরবিহীন দুর্ভোগ, ভোগান্তিতে নাভিশ্বাস হয়ে ওঠেছে পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকদের পরিবারে।

জানা গেছে, বাংলা নববর্ষের প্রথম রাতে প্রচণ্ড কালবৈশাখীর ঝড় বয়ে যায় কিশোরগঞ্জ জেলার বিভিন্ন জনপদের ওপর দিয়ে। এতে পল্লী বিদ্যুতের লাইনের ওপর গাছ পড়ে অসংখ্য স্থানে তার ছিঁড়ে যায়। কোথাও কোথাও লাইনের ওপর ভেঙে পড়ে গাছগাছালি, কোথাও কোথাও ভেঙে পড়ে বৈদ্যুতিক খুঁটি। এ কারণে তিন দিন ধরে কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন জনপদ অন্ধকারে ডুবে রয়েছে। ফ্রিজে রাখা পচনশীল খাবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দেখা দিয়েছে তীব্র পানির সংকট। এমনকি চার্জের অভাবে বন্ধ হয়ে গেছে নিত্য ব্যবহার্য মোবাইল ফোনসহ যাবতীয় ইলেকট্রনিকস সামগ্রী।

কিশোরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাভুক্ত কিশোরগঞ্জ সদর, হোসেনপুর, পাকুন্দিয়া, কটিয়াদী, করিমগঞ্জ, তাড়াইল, নিকলী, বাজিতপুর, ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম উপজেলার গ্রাহকেরা এমন সংকটের মুখে পড়েছেন।

গ্রাহকেরা বলছেন, দিনের বেলা তীব্র গরমের জ্বালায় ঘরে টেকা দায় হয়ে গেছে। আর এমন ঘুটঘুটে অন্ধকারের কারণে বাড়ছে চুরি। ঝড়ের তাণ্ডবের অজুহাতে এত দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বন্ধ থাকা মেনে নেওয়া যায় না।

সদর উপজেলার মহিনন্দ ইউনিয়নের ভাস্করখিলা গ্রামের আজিজুল ইসলাম, আব্দুল মালেক ও বকুল মিয়া বলেন, আমাদের এলাকায় তিন দিন যাবত কোনো বিদ্যুৎ নেই। যে কারণে তীব্র খাবার পানির সংকটে পড়েছি। পাশাপাশি কুরবানির ঈদে বিক্রির জন্য যে গরু লালন-পালন করছি তাতে তীব্র সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি। গরুকে গোসল করাতে পারছি না। একেকটা গরুর দাম তিন-চার লাখ টাকা। এ সমস্যা থেকে মুক্তি চাই।

একই গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ ফায়জুল ইসলাম বলেন, আমার ছেলে এসএসসি পরীক্ষার্থী। বিদ্যুৎ না থাকার কারণে পড়াশোনায় ক্ষতি হচ্ছে।

তাড়াইল উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী ও দীন ইসলাম বলেন, লোডশেডিংয়ের কারণে আমাদের ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের ব্যবসায় লোকসান গুণতে হচ্ছে।

সদর উপজেলার লতিবাবাদ ইউনিয়নের অটোরিকশাচালক হান্নান মিয়া বলেন, অটোরিকশা চালিয়ে সংসার চালাই। তিন দিন ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় অটোরিকশা চার্জ দিতে পারছি না। যে কারণে গাড়ি বাসায় পড়ে আছে। ইনকাম নেই। ধারদেনা করে সংসার চালাচ্ছি।

এ বিষয়ে কথা হলে কিশোরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মো. আতিকুজ্জামান চৌধুরী বলেন, পহেলা বৈশাখের রাতে হওয়া ঝড়ে লাইনের ওপর গাছপালা পড়ে তার ছিঁড়ে যাওয়ায় এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। এমনকি বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায়ও ঝড়ে লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে সংস্কারকাজ পুরোদমে চলছে এবং আজকের মধ্যেই সব এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

৭২ ঘন্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যে-সব এলাকায়…RT

Update Time : ০৪:৩৬:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

কালবৈশাখী ঝড়ে লণ্ডভণ্ড পল্লী বিদ্যুতের সংযোগ। আর এ কারণে টানা ৭২ ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎহীন কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন গ্রামীণ জনপদ। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ায় জনজীবনে নেমে এসেছে নজিরবিহীন দুর্ভোগ, ভোগান্তিতে নাভিশ্বাস হয়ে ওঠেছে পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকদের পরিবারে।

জানা গেছে, বাংলা নববর্ষের প্রথম রাতে প্রচণ্ড কালবৈশাখীর ঝড় বয়ে যায় কিশোরগঞ্জ জেলার বিভিন্ন জনপদের ওপর দিয়ে। এতে পল্লী বিদ্যুতের লাইনের ওপর গাছ পড়ে অসংখ্য স্থানে তার ছিঁড়ে যায়। কোথাও কোথাও লাইনের ওপর ভেঙে পড়ে গাছগাছালি, কোথাও কোথাও ভেঙে পড়ে বৈদ্যুতিক খুঁটি। এ কারণে তিন দিন ধরে কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন জনপদ অন্ধকারে ডুবে রয়েছে। ফ্রিজে রাখা পচনশীল খাবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দেখা দিয়েছে তীব্র পানির সংকট। এমনকি চার্জের অভাবে বন্ধ হয়ে গেছে নিত্য ব্যবহার্য মোবাইল ফোনসহ যাবতীয় ইলেকট্রনিকস সামগ্রী।

কিশোরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাভুক্ত কিশোরগঞ্জ সদর, হোসেনপুর, পাকুন্দিয়া, কটিয়াদী, করিমগঞ্জ, তাড়াইল, নিকলী, বাজিতপুর, ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম উপজেলার গ্রাহকেরা এমন সংকটের মুখে পড়েছেন।

গ্রাহকেরা বলছেন, দিনের বেলা তীব্র গরমের জ্বালায় ঘরে টেকা দায় হয়ে গেছে। আর এমন ঘুটঘুটে অন্ধকারের কারণে বাড়ছে চুরি। ঝড়ের তাণ্ডবের অজুহাতে এত দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বন্ধ থাকা মেনে নেওয়া যায় না।

সদর উপজেলার মহিনন্দ ইউনিয়নের ভাস্করখিলা গ্রামের আজিজুল ইসলাম, আব্দুল মালেক ও বকুল মিয়া বলেন, আমাদের এলাকায় তিন দিন যাবত কোনো বিদ্যুৎ নেই। যে কারণে তীব্র খাবার পানির সংকটে পড়েছি। পাশাপাশি কুরবানির ঈদে বিক্রির জন্য যে গরু লালন-পালন করছি তাতে তীব্র সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি। গরুকে গোসল করাতে পারছি না। একেকটা গরুর দাম তিন-চার লাখ টাকা। এ সমস্যা থেকে মুক্তি চাই।

একই গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ ফায়জুল ইসলাম বলেন, আমার ছেলে এসএসসি পরীক্ষার্থী। বিদ্যুৎ না থাকার কারণে পড়াশোনায় ক্ষতি হচ্ছে।

তাড়াইল উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী ও দীন ইসলাম বলেন, লোডশেডিংয়ের কারণে আমাদের ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের ব্যবসায় লোকসান গুণতে হচ্ছে।

সদর উপজেলার লতিবাবাদ ইউনিয়নের অটোরিকশাচালক হান্নান মিয়া বলেন, অটোরিকশা চালিয়ে সংসার চালাই। তিন দিন ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় অটোরিকশা চার্জ দিতে পারছি না। যে কারণে গাড়ি বাসায় পড়ে আছে। ইনকাম নেই। ধারদেনা করে সংসার চালাচ্ছি।

এ বিষয়ে কথা হলে কিশোরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মো. আতিকুজ্জামান চৌধুরী বলেন, পহেলা বৈশাখের রাতে হওয়া ঝড়ে লাইনের ওপর গাছপালা পড়ে তার ছিঁড়ে যাওয়ায় এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। এমনকি বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায়ও ঝড়ে লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে সংস্কারকাজ পুরোদমে চলছে এবং আজকের মধ্যেই সব এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক হবে।