Dhaka ০৮:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প’দত্যাগ করলেন জ্বা’লানি মন্ত্রী

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৯:৪৭:৪৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
  • ৩৪৯ Time View

নিম্নমানের কয়লা আমদানি নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পদত্যাগ করেছেন শ্রীলঙ্কার জ্বালানিমন্ত্রী কুমারা জয়াকোডি। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) তিনি এবং জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সচিব উদয়ঙ্গা হেমাপালা পদত্যাগপত্র জমা দেন।

সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের সুযোগ করে দিতে জয়াকোডি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন। তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকে।

বিতর্কের সূত্রপাত হয় দেশটির একমাত্র কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে নিম্নমানের কয়লা সরবরাহের অভিযোগকে কেন্দ্র করে। বিষয়টি নিয়ে জনমনে অসন্তোষ তৈরি হলে সরকার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দেয়। তদন্ত ছয় মাসের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিথা হেরাথ সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা কিছুই গোপন করার চেষ্টা করছি না। সব ক্রয়প্রক্রিয়া নিয়ম মেনেই হয়েছে, এবং সরাসরি দুর্নীতির কোনো প্রমাণ নেই।”

এর আগে জয়াকোডির বিরুদ্ধে সংসদে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হলেও তা গত সপ্তাহে খারিজ হয়ে যায়। তবুও বিতর্কের চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত তিনি পদত্যাগ করেন। তিনি বর্তমান সরকারের প্রথম উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রী, যিনি দুর্নীতির অভিযোগের প্রেক্ষিতে পদ ছাড়লেন।

প্রেসিডেন্ট দিসানায়েকে ২০০৯ সাল থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য সব কয়লা আমদানির ওপর পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। ইতোমধ্যে স্বীকার করা হয়েছে যে নিম্নমানের কয়লার কারণে রাষ্ট্রায়ত্ত লাকভিজয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে।

দেশটির বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ৪০ শতাংশ পূরণে বছরে প্রায় ২২ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন কয়লা প্রয়োজন। সাম্প্রতিক উৎপাদন ঘাটতি পূরণে গত মাসে জরুরি ভিত্তিতে ৩ লাখ মেট্রিক টন কয়লা আমদানি করতে হয়েছে এবং বিকল্প হিসেবে ডিজেল ও ফার্নেস অয়েলের ব্যবহার বাড়ানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, কয়েক বছর আগে তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে থাকা শ্রীলঙ্কা এখনো জ্বালানির জন্য আমদানির ওপর নির্ভরশীল। মধ্যপ্রাচ্য সংকটের প্রভাবে জ্বালানি সরবরাহে চাপ বাড়ায় দেশটিতে একসময় জ্বালানি রেশনিং এবং প্রতি বুধবার সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

প’দত্যাগ করলেন জ্বা’লানি মন্ত্রী

Update Time : ০৯:৪৭:৪৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

নিম্নমানের কয়লা আমদানি নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পদত্যাগ করেছেন শ্রীলঙ্কার জ্বালানিমন্ত্রী কুমারা জয়াকোডি। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) তিনি এবং জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সচিব উদয়ঙ্গা হেমাপালা পদত্যাগপত্র জমা দেন।

সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের সুযোগ করে দিতে জয়াকোডি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন। তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকে।

বিতর্কের সূত্রপাত হয় দেশটির একমাত্র কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে নিম্নমানের কয়লা সরবরাহের অভিযোগকে কেন্দ্র করে। বিষয়টি নিয়ে জনমনে অসন্তোষ তৈরি হলে সরকার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দেয়। তদন্ত ছয় মাসের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিথা হেরাথ সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা কিছুই গোপন করার চেষ্টা করছি না। সব ক্রয়প্রক্রিয়া নিয়ম মেনেই হয়েছে, এবং সরাসরি দুর্নীতির কোনো প্রমাণ নেই।”

এর আগে জয়াকোডির বিরুদ্ধে সংসদে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হলেও তা গত সপ্তাহে খারিজ হয়ে যায়। তবুও বিতর্কের চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত তিনি পদত্যাগ করেন। তিনি বর্তমান সরকারের প্রথম উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রী, যিনি দুর্নীতির অভিযোগের প্রেক্ষিতে পদ ছাড়লেন।

প্রেসিডেন্ট দিসানায়েকে ২০০৯ সাল থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য সব কয়লা আমদানির ওপর পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। ইতোমধ্যে স্বীকার করা হয়েছে যে নিম্নমানের কয়লার কারণে রাষ্ট্রায়ত্ত লাকভিজয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে।

দেশটির বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ৪০ শতাংশ পূরণে বছরে প্রায় ২২ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন কয়লা প্রয়োজন। সাম্প্রতিক উৎপাদন ঘাটতি পূরণে গত মাসে জরুরি ভিত্তিতে ৩ লাখ মেট্রিক টন কয়লা আমদানি করতে হয়েছে এবং বিকল্প হিসেবে ডিজেল ও ফার্নেস অয়েলের ব্যবহার বাড়ানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, কয়েক বছর আগে তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে থাকা শ্রীলঙ্কা এখনো জ্বালানির জন্য আমদানির ওপর নির্ভরশীল। মধ্যপ্রাচ্য সংকটের প্রভাবে জ্বালানি সরবরাহে চাপ বাড়ায় দেশটিতে একসময় জ্বালানি রেশনিং এবং প্রতি বুধবার সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল।