Dhaka ০৩:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ক্যানসারের যেসব প্রাথমিক সতর্ক সংকেত উপেক্ষা করলেই বিপদ

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:৫৫:০৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
  • ১৩৪ Time View

ক্যানসার এমন এক মরণব্যাধি যা দ্রুত শনাক্ত করা গেলে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। কিছু সাধারণ উপসর্গকে আমরা প্রায়শই অবহেলা করি, কিন্তু এই লক্ষণগুলোই হতে পারে ক্যানসারের প্রাথমিক সতর্ক সংকেত। সময়মতো সচেতন হওয়া এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এক্ষেত্রে অত্যন্ত জরুরি।
ভারতের অ্যাপোলো হাসপাতালের জুবিলি হিলস শাখার কনসালটেন্ট সার্জিক্যাল অনকোলজিস্ট ডা. অজেশ রাজ সাক্সেনা জোর দিয়ে বলেন যে, ক্যানসার নিরাময়ের প্রধান চাবিকাঠি হলো এর দ্রুত ও প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ন্যাশনাল ক্যানসার ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৩০-৫০ শতাংশ ক্যানসার প্রতিরোধযোগ্য এবং প্রাথমিক শনাক্তকরণ অনেক জীবন বাঁচাতে পারে। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও স্ক্রিনিং ক্যানসার শুরুর আগেই তা চিহ্নিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ক্যানসারের ৮টি প্রাথমিক সতর্ক লক্ষণ
ডা. সাক্সেনা এবং স্টেরিস হেলথকেয়ারের সিইও জীবন কাসারার মতে, যদি আপনার নিচের লক্ষণগুলো দেখা যায়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক:
* ১. কারণ ছাড়াই ওজন কমে যাওয়া: হঠাৎ করে ৬-১২ মাসের মধ্যে শরীরের ওজনের ৫ শতাংশ বা তার বেশি কমে যাওয়া অন্ত্র, অগ্ন্যাশয় বা ফুসফুস ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে।
* ২. দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি: সাধারণ ক্লান্তির চেয়েও তীব্র এবং বিশ্রামের পরেও দূর না হওয়া অতিরিক্ত ক্লান্তি লিউকেমিয়া, কোলন বা পাকস্থলীর ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে।
* ৩. অস্বাভাবিক ফোলা বা গাঁট: ঘাড়, স্তন, অণ্ডকোষ বা পেটের কোনো অংশে দীর্ঘস্থায়ী বা বাড়তে থাকা অস্বাভাবিক ফোলা বা গাঁট দেখা গেলে দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণ করা উচিত।
* ৪. মলমূত্রের অভ্যাসে পরিবর্তন: দীর্ঘমেয়াদি ডায়রিয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য বা মলে রক্ত থাকা কোলোরেক্টাল ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে। এছাড়া প্রস্রাবে রক্ত (হেমেচুরিয়া) দেখা দিলে তা কিডনি বা ব্লাডার ক্যানসারের ইঙ্গিত দেয়।
* ৫. অস্বাভাবিক রক্তপাত বা নির্গমন: মাসিকের সময় ছাড়াও রক্তপাত, কাশিতে রক্ত বা স্তনবৃন্ত থেকে অস্বাভাবিক তরল নির্গমন ক্যানসারের সূচক হতে পারে।
* ৬. তিন সপ্তাহের বেশি স্থায়ী কাশি বা কণ্ঠ ভাঙা: বিশেষ করে ধূমপায়ীদের ক্ষেত্রে এটি ল্যারিঞ্জিয়াল বা ফুসফুস ক্যানসারের প্রাথমিক উপসর্গ হতে পারে।
* ৭. ত্বকে বা তিলের অস্বাভাবিক পরিবর্তন: ত্বকের কোনো তিল বা ছালে অস্বাভাবিক পরিবর্তন যেমন—অসম আকৃতি, অস্পষ্ট কিনারা, রঙের ভিন্নতা এবং ৬ মিমি-এর বেশি ব্যাস বেড়ে যাওয়া ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে।
* ৮. দীর্ঘস্থায়ী ঘা যা ভালো হচ্ছে না: মুখ, ত্বক বা যৌনাঙ্গে এমন কোনো ঘা যা দীর্ঘদিনেও শুকিয়ে যাচ্ছে না, তা ত্বক বা মুখের ক্যানসার হতে পারে।
ক্যানসারের মতো প্রাণঘাতী রোগের ক্ষেত্রে সঠিক সচেতনতা এবং আগেভাগে শনাক্ত করাই জীবন বাঁচাতে পারে। অনেক সময় ক্যানসারের প্রাথমিক উপসর্গগুলো সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যার মতো মনে হলেও, তা অবহেলা করা খুবই বিপজ্জনক। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন যে, যদি কোনো উপসর্গ ২-৩ সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয় বা ধীরে ধীরে খারাপের দিকে যায়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
প্রযুক্তি ও চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নতির ফলে এখন অনেক আগেই বিভিন্ন ধরনের ক্যানসার শনাক্ত করা সম্ভব। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, নিজের শরীর সম্পর্কে সচেতনতা এবং ঝুঁকিভিত্তিক স্ক্রিনিং এই তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দিলে ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াই অনেক সহজ ও কার্যকর হতে পারে।
যদি আপনার বয়স ৪০ বছরের বেশি হয় অথবা পরিবারের কারো ক্যানসারের ইতিহাস থাকে, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে নির্দিষ্ট স্ক্রিনিং করানোই হবে আপনার সুস্থতার পথে এক বড় পদক্ষেপ। কারণ, সময় থাকতেই ক্যানসার ধরা পড়া মানেই—জীবনের একটা নতুন সুযোগ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

স্ত্রীর বু’কের দুধ পান করে ফেললে কি স্বামী-স্ত্রীর তা’লাক হয়ে যায়: ইসলাম যা বলছে..

ক্যানসারের যেসব প্রাথমিক সতর্ক সংকেত উপেক্ষা করলেই বিপদ

Update Time : ১০:৫৫:০৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

ক্যানসার এমন এক মরণব্যাধি যা দ্রুত শনাক্ত করা গেলে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। কিছু সাধারণ উপসর্গকে আমরা প্রায়শই অবহেলা করি, কিন্তু এই লক্ষণগুলোই হতে পারে ক্যানসারের প্রাথমিক সতর্ক সংকেত। সময়মতো সচেতন হওয়া এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এক্ষেত্রে অত্যন্ত জরুরি।
ভারতের অ্যাপোলো হাসপাতালের জুবিলি হিলস শাখার কনসালটেন্ট সার্জিক্যাল অনকোলজিস্ট ডা. অজেশ রাজ সাক্সেনা জোর দিয়ে বলেন যে, ক্যানসার নিরাময়ের প্রধান চাবিকাঠি হলো এর দ্রুত ও প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ন্যাশনাল ক্যানসার ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৩০-৫০ শতাংশ ক্যানসার প্রতিরোধযোগ্য এবং প্রাথমিক শনাক্তকরণ অনেক জীবন বাঁচাতে পারে। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও স্ক্রিনিং ক্যানসার শুরুর আগেই তা চিহ্নিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ক্যানসারের ৮টি প্রাথমিক সতর্ক লক্ষণ
ডা. সাক্সেনা এবং স্টেরিস হেলথকেয়ারের সিইও জীবন কাসারার মতে, যদি আপনার নিচের লক্ষণগুলো দেখা যায়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক:
* ১. কারণ ছাড়াই ওজন কমে যাওয়া: হঠাৎ করে ৬-১২ মাসের মধ্যে শরীরের ওজনের ৫ শতাংশ বা তার বেশি কমে যাওয়া অন্ত্র, অগ্ন্যাশয় বা ফুসফুস ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে।
* ২. দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি: সাধারণ ক্লান্তির চেয়েও তীব্র এবং বিশ্রামের পরেও দূর না হওয়া অতিরিক্ত ক্লান্তি লিউকেমিয়া, কোলন বা পাকস্থলীর ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে।
* ৩. অস্বাভাবিক ফোলা বা গাঁট: ঘাড়, স্তন, অণ্ডকোষ বা পেটের কোনো অংশে দীর্ঘস্থায়ী বা বাড়তে থাকা অস্বাভাবিক ফোলা বা গাঁট দেখা গেলে দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণ করা উচিত।
* ৪. মলমূত্রের অভ্যাসে পরিবর্তন: দীর্ঘমেয়াদি ডায়রিয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য বা মলে রক্ত থাকা কোলোরেক্টাল ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে। এছাড়া প্রস্রাবে রক্ত (হেমেচুরিয়া) দেখা দিলে তা কিডনি বা ব্লাডার ক্যানসারের ইঙ্গিত দেয়।
* ৫. অস্বাভাবিক রক্তপাত বা নির্গমন: মাসিকের সময় ছাড়াও রক্তপাত, কাশিতে রক্ত বা স্তনবৃন্ত থেকে অস্বাভাবিক তরল নির্গমন ক্যানসারের সূচক হতে পারে।
* ৬. তিন সপ্তাহের বেশি স্থায়ী কাশি বা কণ্ঠ ভাঙা: বিশেষ করে ধূমপায়ীদের ক্ষেত্রে এটি ল্যারিঞ্জিয়াল বা ফুসফুস ক্যানসারের প্রাথমিক উপসর্গ হতে পারে।
* ৭. ত্বকে বা তিলের অস্বাভাবিক পরিবর্তন: ত্বকের কোনো তিল বা ছালে অস্বাভাবিক পরিবর্তন যেমন—অসম আকৃতি, অস্পষ্ট কিনারা, রঙের ভিন্নতা এবং ৬ মিমি-এর বেশি ব্যাস বেড়ে যাওয়া ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে।
* ৮. দীর্ঘস্থায়ী ঘা যা ভালো হচ্ছে না: মুখ, ত্বক বা যৌনাঙ্গে এমন কোনো ঘা যা দীর্ঘদিনেও শুকিয়ে যাচ্ছে না, তা ত্বক বা মুখের ক্যানসার হতে পারে।
ক্যানসারের মতো প্রাণঘাতী রোগের ক্ষেত্রে সঠিক সচেতনতা এবং আগেভাগে শনাক্ত করাই জীবন বাঁচাতে পারে। অনেক সময় ক্যানসারের প্রাথমিক উপসর্গগুলো সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যার মতো মনে হলেও, তা অবহেলা করা খুবই বিপজ্জনক। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন যে, যদি কোনো উপসর্গ ২-৩ সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয় বা ধীরে ধীরে খারাপের দিকে যায়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
প্রযুক্তি ও চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নতির ফলে এখন অনেক আগেই বিভিন্ন ধরনের ক্যানসার শনাক্ত করা সম্ভব। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, নিজের শরীর সম্পর্কে সচেতনতা এবং ঝুঁকিভিত্তিক স্ক্রিনিং এই তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দিলে ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াই অনেক সহজ ও কার্যকর হতে পারে।
যদি আপনার বয়স ৪০ বছরের বেশি হয় অথবা পরিবারের কারো ক্যানসারের ইতিহাস থাকে, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে নির্দিষ্ট স্ক্রিনিং করানোই হবে আপনার সুস্থতার পথে এক বড় পদক্ষেপ। কারণ, সময় থাকতেই ক্যানসার ধরা পড়া মানেই—জীবনের একটা নতুন সুযোগ।