Dhaka , Tuesday, 28 July 2026

আপনার ৭ বছর বয়সী সন্তান…see more

  • Reporter Name
  • Update Time : 07:18 am, Thursday, 2 July 2026
  • 1204 Time View

অনেক পরিবারের জন্য সন্তানকে পাশে নিয়ে ঘুমানো ভালোবাসা ও নিরাপত্তার একটি স্বাভাবিক অংশ। বিশেষ করে ছোটবেলায় বাবা-মায়ের কাছাকাছি থাকলে শিশুরা নিরাপদ অনুভব করে। তবে শিশুর বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তার ঘুমের অভ্যাসেও কিছু পরিবর্তন আনা জরুরি বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

শিশু মনোবিজ্ঞানীদের মতে, ৬–৭ বছর বয়সের পর ধীরে ধীরে সন্তানকে নিজের বিছানায় ঘুমানোর অভ্যাস গড়ে তোলা ভালো। এতে তার আত্মবিশ্বাস, স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এবং মানসিক বিকাশে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে, এই বয়সে বাবা-মায়ের পাশে ঘুমানো ক্ষতিকর বা অস্বাভাবিক। প্রতিটি শিশুর মানসিক চাহিদা ও পারিবারিক পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে।

অনেক সময় নতুন স্কুলে ভর্তি, অসুস্থতা, দুঃস্বপ্ন বা মানসিক চাপের কারণে শিশুরা বাবা-মায়ের পাশে ঘুমাতে চাইতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে শিশুকে জোর না করে ধীরে ধীরে নিজের ঘরে বা নিজের বিছানায় ঘুমানোর অভ্যাস তৈরি করাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, রাতে ঘুমানোর আগে শিশুর সঙ্গে কিছু সময় গল্প করা, বই পড়া বা শান্ত পরিবেশ তৈরি করলে সে একা ঘুমাতে আরও স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতে পারে। পাশাপাশি রাতে বারবার ভয় পেলে বা ঘুমের সমস্যা দীর্ঘদিন চলতে থাকলে শিশু বিশেষজ্ঞ বা মনোবিজ্ঞানীর পরামর্শ নেওয়া উচিত।

সবশেষে মনে রাখা জরুরি, সন্তানের পাশে ঘুমানো বা আলাদা ঘুমানো—দুটিই অনেক ক্ষেত্রে পারিবারিক সিদ্ধান্তের বিষয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো শিশুর নিরাপত্তা, মানসিক স্বস্তি এবং সুস্থ বিকাশ নিশ্চিত করা। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত চটকদার শিরোনামের পরিবর্তে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের ওপর ভরসা করাই সবচেয়ে ভালো।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

আপনার ৭ বছর বয়সী সন্তান…see more

Update Time : 07:18 am, Thursday, 2 July 2026

অনেক পরিবারের জন্য সন্তানকে পাশে নিয়ে ঘুমানো ভালোবাসা ও নিরাপত্তার একটি স্বাভাবিক অংশ। বিশেষ করে ছোটবেলায় বাবা-মায়ের কাছাকাছি থাকলে শিশুরা নিরাপদ অনুভব করে। তবে শিশুর বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তার ঘুমের অভ্যাসেও কিছু পরিবর্তন আনা জরুরি বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

শিশু মনোবিজ্ঞানীদের মতে, ৬–৭ বছর বয়সের পর ধীরে ধীরে সন্তানকে নিজের বিছানায় ঘুমানোর অভ্যাস গড়ে তোলা ভালো। এতে তার আত্মবিশ্বাস, স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এবং মানসিক বিকাশে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে, এই বয়সে বাবা-মায়ের পাশে ঘুমানো ক্ষতিকর বা অস্বাভাবিক। প্রতিটি শিশুর মানসিক চাহিদা ও পারিবারিক পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে।

অনেক সময় নতুন স্কুলে ভর্তি, অসুস্থতা, দুঃস্বপ্ন বা মানসিক চাপের কারণে শিশুরা বাবা-মায়ের পাশে ঘুমাতে চাইতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে শিশুকে জোর না করে ধীরে ধীরে নিজের ঘরে বা নিজের বিছানায় ঘুমানোর অভ্যাস তৈরি করাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, রাতে ঘুমানোর আগে শিশুর সঙ্গে কিছু সময় গল্প করা, বই পড়া বা শান্ত পরিবেশ তৈরি করলে সে একা ঘুমাতে আরও স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতে পারে। পাশাপাশি রাতে বারবার ভয় পেলে বা ঘুমের সমস্যা দীর্ঘদিন চলতে থাকলে শিশু বিশেষজ্ঞ বা মনোবিজ্ঞানীর পরামর্শ নেওয়া উচিত।

সবশেষে মনে রাখা জরুরি, সন্তানের পাশে ঘুমানো বা আলাদা ঘুমানো—দুটিই অনেক ক্ষেত্রে পারিবারিক সিদ্ধান্তের বিষয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো শিশুর নিরাপত্তা, মানসিক স্বস্তি এবং সুস্থ বিকাশ নিশ্চিত করা। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত চটকদার শিরোনামের পরিবর্তে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের ওপর ভরসা করাই সবচেয়ে ভালো।