কি বাচ্চারা কেমন আছো পাশের হার মাত্র ৫২% মানে এইবার অর্ধেক ফে’ইল যারা আ… more

কী বাচ্চারা, কেমন আছো? এইচএসসিতে পাসের হার মাত্র ৫২.১২ শতাংশ, ফল প্রকাশের পর আলোচনায় শিক্ষার্থীদের সাফল্য-ব্যর্থতা
কী বাচ্চারা, কেমন আছো? ফলাফল কেমন হলো তোমাদের? কারও মুখে আনন্দের হাসি, আবার কারও চোখে হতাশা—এমন পরিস্থিতির মধ্যেই প্রকাশিত হয়েছে ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল। এবারের ফলাফলে গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ৫২ দশমিক ১২ শতাংশে। অর্থাৎ, পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের প্রায় অর্ধেকই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। ফল প্রকাশের পর থেকেই শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) আনুষ্ঠানিকভাবে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, গত বছরের তুলনায় এবার পাসের হার কমেছে। ফলে অনেক শিক্ষার্থীর ফলাফল নিয়ে পরিবারে আনন্দের পাশাপাশি কোথাও কোথাও দেখা দিয়েছে হতাশা ও দুশ্চিন্তা।

১২ লাখের বেশি পরীক্ষার্থীর ফল প্রকাশ
এ বছর দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল। তাদের মধ্যে ছাত্রের সংখ্যা ছিল ৬ লাখ ২১ হাজার ৯৬৯ জন এবং ছাত্রীর সংখ্যা ৬ লাখ ৪৮ হাজার ৬১৪ জন।

ফলাফলে গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশে। অর্থাৎ, পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জন করতে পারেনি। তবে পাসের হার কম হওয়া মানেই প্রত্যেক শিক্ষার্থীর প্রস্তুতি খারাপ ছিল—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না। বিষয়ভিত্তিক ফলাফল, পরীক্ষার প্রস্তুতি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয়ও বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।

গত বছরের তুলনায় কমেছে পাসের হার
২০২৫ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গড় পাসের হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। এবার তা কমে হয়েছে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। অর্থাৎ, গত বছরের তুলনায় পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ পয়েন্ট।

এই পরিসংখ্যান স্বাভাবিকভাবেই শিক্ষা খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। কেন এবার এত শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পারল না, কোন বিষয়গুলোতে শিক্ষার্থীরা বেশি সমস্যায় পড়েছে এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে কী ধরনের উদ্যোগ প্রয়োজন—এসব প্রশ্ন নিয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণের প্রয়োজন রয়েছে।

যারা পাস করতে পারোনি, তাদের জন্যও আছে সুযোগ
ফলাফল প্রত্যাশামতো না হলে অনেক শিক্ষার্থী ভেঙে পড়ে। কেউ পরিবারের প্রতিক্রিয়া নিয়ে চিন্তিত থাকে, কেউ আবার নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশ হয়ে পড়ে। কিন্তু একটি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া মানেই জীবনের সব দরজা বন্ধ হয়ে যাওয়া নয়।

যারা এবার উত্তীর্ণ হতে পারোনি, তাদের প্রথম কাজ হলো শান্ত থাকা এবং ফলাফল ভালোভাবে যাচাই করা। কোনো বিষয়ে নম্বর নিয়ে সন্দেহ থাকলে শিক্ষা বোর্ডের নির্ধারিত নিয়মে ফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া সময়সীমা ও নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।

পাশাপাশি কোথায় দুর্বলতা ছিল, কোন বিষয়ে বেশি সমস্যা হয়েছে এবং পরবর্তী পরীক্ষার জন্য কীভাবে প্রস্তুতি নেওয়া যায়—সেটি পরিকল্পনা করা জরুরি। পরিবারের সদস্য ও শিক্ষকদেরও উচিত শিক্ষার্থীদের দোষারোপ না করে তাদের পাশে দাঁড়ানো।

শিক্ষার মান নিয়ে নতুন করে ভাবার সময়
পাসের হার কমে যাওয়ার পর শুধু শিক্ষার্থীদের দায়ী করলেই সমস্যার প্রকৃত কারণ বোঝা যাবে না। শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি, শ্রেণিকক্ষে পাঠদান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুযোগ-সুবিধা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর যোগাযোগ এবং পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়তার মতো বিষয়গুলোও পর্যালোচনা করা দরকার।

একই সঙ্গে শিক্ষার্থীরা কোন বিষয়ে বেশি নম্বর হারিয়েছে এবং বোর্ডভিত্তিক ফলাফলে কী ধরনের পার্থক্য রয়েছে, তা বিশ্লেষণ করলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া সহজ হতে পারে। শিক্ষা ব্যবস্থার উদ্দেশ্য কেবল পরীক্ষায় পাসের হার বাড়ানো নয়; বরং শিক্ষার্থীদের প্রকৃত জ্ঞান, দক্ষতা ও ভবিষ্যৎ গড়ার সুযোগ নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।

অভিভাবকদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ
সন্তানের ফলাফল খারাপ হলে তাকে অন্যের সঙ্গে তুলনা করা কিংবা অপমানজনক কথা বলা পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে। বরং কেন এমন ফল হয়েছে, কোথায় সহায়তা প্রয়োজন এবং সামনে কীভাবে এগোনো যায়—এসব নিয়ে শান্তভাবে কথা বলা উচিত।

মনে রাখতে হবে, ভালো ফলাফল যেমন আনন্দের বিষয়, তেমনি খারাপ ফলাফলও নতুন করে প্রস্তুতি নেওয়ার একটি সুযোগ হতে পারে। শিক্ষার্থীর আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনা এবং তাকে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা করতে সহায়তা করাই এ সময়ে সবচেয়ে জরুরি।

সবশেষে, এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ—গত বছরের তুলনায় কম। তবে যারা উত্তীর্ণ হতে পারোনি, তাদের জন্য বার্তা একটাই: হতাশ হয়ে থেমে যেও না। নিজের ভুলগুলো খুঁজে বের করো, প্রয়োজনীয় সহায়তা নাও এবং পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য প্রস্তুতি শুরু করো। একটি পরীক্ষার ফলাফল তোমার পুরো ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে না।

Author: Janatar Barta

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *