আসল বোতল কিন্তু তেল ন’/কল আমরা কিভাবে বুঝব।… more

আসল বোতল, কিন্তু ভেতরে তেল নকল! কীভাবে বুঝবেন ভেজাল তেল?
বাজার থেকে নামী কোম্পানির বোতলজাত তেল কিনে নিশ্চিন্তে ব্যবহার করছেন? কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন, বোতলটি আসল হলেও তার ভেতরের তেল আসল কি না? অসাধু ব্যবসায়ীরা কোনো কোনো ক্ষেত্রে আসল পণ্যের বোতল বা প্যাকেট ব্যবহার করে ভেজাল পণ্য বিক্রির চেষ্টা করতে পারে। ফলে শুধু বোতলের গায়ে পরিচিত ব্র্যান্ডের নাম দেখেই পণ্যের গুণগত মান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায় না।

রান্নার তেল আমাদের প্রতিদিনের খাবারের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। পরিবারের ছোট-বড় সবাই এই তেল দিয়ে তৈরি খাবার খেয়ে থাকেন। তাই তেলের মান নিয়ে সন্দেহ দেখা দিলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। তবে মনে রাখতে হবে, শুধু রং, গন্ধ কিংবা ঘনত্ব দেখে কোনো তেলকে নিশ্চিতভাবে ভেজাল বলা যায় না। পণ্যের প্যাকেজিং, সিল, উৎপাদনসংক্রান্ত তথ্য এবং প্রয়োজনে পরীক্ষাগারের পরীক্ষার মাধ্যমে বিষয়টি যাচাই করতে হয়।

১. বোতলের সিল ও মুখ ভালোভাবে পরীক্ষা করুন
বোতলজাত তেল কেনার সময় প্রথমেই বোতলের মুখ ও সিল পরীক্ষা করুন। বোতলের সিল ভাঙা, ঢাকনা ঢিলা, মুখের অংশে অস্বাভাবিক দাগ কিংবা লিকেজ থাকলে পণ্যটি না কেনাই ভালো।

তবে সিল অক্ষত থাকলেই যে ভেতরের তেল শতভাগ আসল, তার নিশ্চয়তা পাওয়া যায় না। তাই প্যাকেজিংয়ের পাশাপাশি অন্যান্য তথ্যও যাচাই করা জরুরি।

২. লেবেলের তথ্য মিলিয়ে দেখুন
তেলের বোতলে থাকা লেবেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন। সাধারণত পণ্যের নাম, প্রস্তুতকারক বা বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানের পরিচয়, উৎপাদন ও মেয়াদসংক্রান্ত তথ্য, ব্যাচ নম্বর এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অনুমোদন বা নিবন্ধনের তথ্য উল্লেখ থাকে।

লেবেলে বানান ভুল, অস্পষ্ট ছাপা, তথ্যের অসংগতি কিংবা সন্দেহজনক স্টিকার থাকলে সতর্ক হোন। সম্ভব হলে প্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক গ্রাহকসেবা বা যাচাইব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যাচ নম্বর ও পণ্যের তথ্য মিলিয়ে নিন।

৩. দাম অস্বাভাবিক কম হলে সতর্ক থাকুন
পরিচিত ব্র্যান্ডের তেল বাজারদরের তুলনায় অনেক কম দামে বিক্রি হতে দেখলে কেনার আগে কারণ জেনে নিন। বিশেষ ছাড়, পুরোনো মজুত বা অন্য বৈধ কারণেও দাম কম হতে পারে। তাই কম দাম মানেই ভেজাল নয়, তবে অস্বাভাবিক কম দাম সতর্ক হওয়ার একটি কারণ হতে পারে।

বিশ্বস্ত দোকান থেকে পণ্য কিনুন এবং সম্ভব হলে রসিদ সংগ্রহ করুন। এতে পরবর্তী সময়ে অভিযোগ জানানোর প্রয়োজন হলে পণ্য কেনার প্রমাণ পাওয়া সহজ হয়।

৪. তেলের রং ও গন্ধ দেখে কী বোঝা যায়?
অনেকেই মনে করেন, তেলের রং বেশি গাঢ় হলে সেটি ভেজাল। আবার কেউ কেউ মনে করেন, তেলের গন্ধ অস্বাভাবিক হলেই তা নকল। বাস্তবে বিষয়টি এত সহজ নয়।

বিভিন্ন ধরনের তেলের স্বাভাবিক রং, গন্ধ ও ঘনত্ব আলাদা হতে পারে। তেলের ধরন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ এবং বয়সের কারণেও এসব বৈশিষ্ট্যে পরিবর্তন আসতে পারে।

তবে তেল থেকে অস্বাভাবিক দুর্গন্ধ বের হলে, বোতলের ভেতরে অস্বাভাবিক ময়লা বা কণা দেখা গেলে কিংবা তেলের চেহারায় সন্দেহজনক পরিবর্তন থাকলে সেটি ব্যবহার না করাই ভালো। এসব লক্ষণ সন্দেহের কারণ হতে পারে, কিন্তু এগুলো একা ভেজাল প্রমাণ করে না।

৫. ঘরে পরীক্ষা করেই কি ভেজাল তেল শনাক্ত করা সম্ভব?
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক সময় পানি, ফ্রিজ, আগুন কিংবা অন্য উপকরণ ব্যবহার করে তেল পরীক্ষা করার বিভিন্ন পদ্ধতি প্রচার করা হয়। কিন্তু এসব পদ্ধতির অনেকগুলোই নির্ভরযোগ্য নয়।

উদাহরণস্বরূপ, ফ্রিজে রাখলে তেল জমে যাওয়া বা ঘন হয়ে যাওয়ার বিষয়টি একাই ভেজালের প্রমাণ নয়। তেলের ধরন ও তাপমাত্রার ওপর এর আচরণ নির্ভর করে। একইভাবে আগুনে পুড়িয়ে বা পানির সঙ্গে মিশিয়ে সব ধরনের ভেজাল শনাক্ত করা যায় না।

তাই অজানা রাসায়নিক ব্যবহার করে বা আগুন জ্বালিয়ে বাড়িতে পরীক্ষা করার চেষ্টা করবেন না। তেলটি সন্দেহজনক মনে হলে সেটি ব্যবহার বন্ধ রাখুন এবং প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহায়তা নিন।

৬. বোতল আসল হলেও ভেত

Author: Janatar Barta

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *