জনপ্রিয় ইউটিউবার ও ‘বিগ বস OTT 3’-এর আলোচিত মুখ আরমান মালিকের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা যেন থামছেই না। বিশেষ করে তার প্রথম স্ত্রী পায়েল মালিককে ঘিরে ডিভোর্সের গুঞ্জন বিভিন্ন সময় নতুন করে ছড়িয়েছে। তবে সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, পায়েল ও আরমানের ডিভোর্স হয়ে গেছে—এমন কোনো নিশ্চিত ঘোষণা তাদের পক্ষ থেকে পাওয়া যায়নি।
২০২৬ সালের জুনে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, আরমান মালিক নাকি তার প্রথম স্ত্রী পায়েলকে ডিভোর্স দিতে পারেন। বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হলে আরমান নিজেই এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানান। তার বক্তব্য অনুযায়ী, তাদের সংসার ভেঙে যাওয়ার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক সময় ভিউ পাওয়ার জন্য ভিত্তিহীন খবর ছড়ানো হচ্ছে। পায়েলও একই ধরনের প্রতিক্রিয়া জানান।
এর আগে অবশ্য পায়েল নিজেই ডিভোর্সের কথা বলেছিলেন। ২০২৪ সালে ‘বিগ বস OTT 3’ থেকে বের হওয়ার পর তিনি জানিয়েছিলেন, তাদের সম্পর্ক ও পরিবারের সন্তানদের নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য এবং অনলাইন ট্রলিং তাকে ভীষণভাবে প্রভাবিত করেছিল। সেই সময় তিনি আরমানের কাছ থেকে আলাদা হয়ে যাওয়ার কথা বলেছিলেন এবং সন্তানদের নিয়ে নিজের মতো থাকার কথাও জানিয়েছিলেন।
তবে সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবে স্থায়ী ডিভোর্সে গড়ায়নি। পরবর্তী সময়ে পায়েল ও আরমানকে আবারও একসঙ্গে দেখা যায়। এমনকি পায়েল ২০২৪ সালের এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, আরমানের দ্বিতীয় বিয়ের পর তিনি এক বছরেরও বেশি সময় আলাদা ছিলেন। পরে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে আবার পরিবারের কাছে ফিরে আসেন এবং সম্পর্কটি চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
নতুন করে কেন আলোচনায় পায়েল?
২০২৬ সালেও আরমান-পায়েল-কৃতিকা পরিবারকে ঘিরে একের পর এক খবর প্রকাশ হয়েছে। মার্চ ২০২৬-এ পায়েল তাদের চতুর্থ সন্তানের জন্ম দেন বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। এর ফলে আরমান মোট পাঁচ সন্তানের বাবা হন—পায়েলের সঙ্গে চার সন্তান এবং কৃতিকার সঙ্গে এক সন্তান।
এরপরও তাদের পারিবারিক জীবন নিয়ে নানা ধরনের ভিডিও ও খবর সামনে এসেছে। সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ পায়েল ও কৃতিকার পক্ষ থেকে নতুন একটি ‘গুড নিউজ’-এর ইঙ্গিত নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়। একটি ভ্লগে ‘বেবি কামিং সুন’ লেখা কেক দেখা যায় এবং পরিবারে নতুন সদস্য আসার ইঙ্গিত দেওয়া হলেও তখন সেটি পায়েল নাকি কৃতিকার—তা পরিষ্কার করা হয়নি।
অর্থাৎ, পায়েল-আরমানের সম্পর্ক নিয়ে ডিভোর্স, বিচ্ছেদ কিংবা আবার এক হওয়ার মতো নানা দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘুরলেও সব দাবিকে সত্য হিসেবে নেওয়ার সুযোগ নেই। বিশেষ করে ২০২৬ সালের জুনে আরমান ও পায়েল প্রকাশ্যেই ডিভোর্সের গুঞ্জনকে নাকচ করেছিলেন।
তাই “ডিভোর্সের পর আবারও…” ধরনের ভাইরাল শিরোনাম দেখলে পুরো ঘটনাটি যাচাই না করে সেটিকে সত্য ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। আরমান, পায়েল বা কৃতিকার পক্ষ থেকে নতুন কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এলে সেটিই হবে বিষয়টি নিশ্চিত করার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ভিত্তি।