মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের জন্য পবিত্রতম মাসগুলোর একটি রমজান। সারা বিশ্বের মুসলমানরা এই মাসে রোজা, নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত ও ইবাদতের মাধ্যমে মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করেন। রমজান শেষে উদযাপিত হয় মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর।
এরই মধ্যে ২০২৭ সালের পবিত্র রমজান মাস ও ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য সময় নিয়ে বিভিন্ন জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব ও ক্যালেন্ডারে তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতেই পবিত্র রমজান মাস শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে চূড়ান্ত তারিখ নির্ভর করবে চাঁদ দেখার ওপর।
কবে শুরু হতে পারে রমজান?
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ক্যালেন্ডার ও জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি, সোমবার থেকে রমজান শুরু হওয়ার সম্ভাবনা দেখানো হচ্ছে। কিছু দেশে ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে রমজান শুরু হওয়ার সম্ভাবনাও উল্লেখ করা হয়েছে। এর কারণ হলো ইসলামি মাসের শুরু চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল এবং দেশভেদে চাঁদ দেখার সিদ্ধান্তে একদিনের পার্থক্য হতে পারে।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও চূড়ান্তভাবে রমজানের প্রথম দিন নির্ধারিত হবে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সিদ্ধান্তের মাধ্যমে। তাই এখনই ৮ ফেব্রুয়ারিকে নিশ্চিত প্রথম রোজার তারিখ হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।
তাহলে ঈদুল ফিতর কবে হতে পারে?
রমজান সাধারণত ২৯ অথবা ৩০ দিন হয়ে থাকে। রমজান মাস শেষে নতুন চাঁদ দেখা গেলে শুরু হয় শাওয়াল মাস এবং তার প্রথম দিনেই উদযাপিত হয় ঈদুল ফিতর।
বর্তমান হিসাব অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ৯ মার্চ মঙ্গলবার ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে দেখানো হচ্ছে। তবে চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে বাংলাদেশে ঈদ ১০ মার্চ বুধবারও হতে পারে। তাই ঈদের সুনির্দিষ্ট তারিখ এখনই চূড়ান্ত নয়।
চাঁদ দেখার ওপর কেন নির্ভর করে তারিখ?
ইসলামি বর্ষপঞ্জি চন্দ্রভিত্তিক। নতুন ইসলামি মাস শুরু হওয়ার ক্ষেত্রে নতুন চাঁদের উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ। রমজানের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য। ফলে কোনো কোনো দেশে জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাবের ভিত্তিতে একটি তারিখ সম্ভাব্য হিসেবে উল্লেখ থাকলেও স্থানীয়ভাবে চাঁদ দেখার সিদ্ধান্তের কারণে রোজা বা ঈদ একদিন আগে-পরে হতে পারে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রকাশিত রমজানের সময়সূচিগুলোতেও রমজানের প্রথম দিন চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০২৭ সালের সম্ভাব্য হিসাব
প্রাথমিক আন্তর্জাতিক হিসাব অনুযায়ী—
📌 রমজান শুরু: ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৭, সোমবার — সম্ভাব্য
📌 রমজানের শেষ: ৮ বা ৯ মার্চের দিকে — চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল
📌 ঈদুল ফিতর: ৯ বা ১০ মার্চ ২০২৭ — সম্ভাব্য
📌 চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত: স্থানীয়ভাবে চাঁদ দেখা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ঘোষণার পর
অর্থাৎ ছবিতে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ২০২৭ সালের রমজান ও ঈদের সময় যতই এগিয়ে আসবে, ততই সুনির্দিষ্ট তারিখ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
রমজান এগিয়ে আসছে প্রায় ১০-১২ দিন করে
চন্দ্রভিত্তিক ইসলামি ক্যালেন্ডারের কারণে প্রতি বছর গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারে রমজান সাধারণত প্রায় ১০ থেকে ১২ দিন আগে চলে আসে। ফলে ২০২৬ সালের তুলনায় ২০২৭ সালে রমজান আরও আগে শুরু হবে।
রমজান মুসলমানদের জন্য শুধু রোজা রাখার মাস নয়; এটি আত্মসংযম, ইবাদত, দান-সদকা, কোরআন তিলাওয়াত এবং মানুষের প্রতি সহমর্মিতা প্রদর্শনেরও বিশেষ সময়। রমজানের শেষ দশক এবং শবে কদরকে ঘিরেও মুসলিমদের মধ্যে বিশেষ ইবাদতের আমেজ তৈরি হয়।
তাই ২০২৭ সালের রমজানকে সামনে রেখে অনেকেই এখন থেকেই সম্ভাব্য সময়সূচি, ছুটি, ভ্রমণ ও পারিবারিক পরিকল্পনা নিয়ে হিসাব শুরু করেছেন। তবে রমজান ও ঈদের চূড়ান্ত তারিখ হিসেবে এখনই কোনো একটি দিন নিশ্চিত করে বলা যাবে না। সময় ঘনিয়ে এলে চাঁদ দেখা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ঘোষণার পরই বাংলাদেশে প্রথম রোজা ও ঈদের সঠিক তারিখ নিশ্চিত হবে।