শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হ*ত্যাকা’রী আ’/টক।তার পরিচয় জানলে অবাক হবেন…..see more

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডে পলাতক আসামি আটক, পরিচয় জানলে অবাক হবেন!
দীর্ঘ ৪৫ বছর পর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর আটকের খবর প্রকাশ্যে আসার পর ১৯৮১ সালের সেই আলোচিত হত্যাকাণ্ড নিয়ে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি কোথায় ছিলেন, কীভাবে আত্মগোপনে ছিলেন এবং কীভাবে তাঁর অবস্থান শনাক্ত করা হলো—এসব প্রশ্ন সামনে এসেছে।

কে এই মোজাফফর হোসেন?
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আটক ব্যক্তির নাম মোহাম্মদ মোজাফফর হোসেন। তিনি একসময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মেজর পদে কর্মরত ছিলেন। গ্রেপ্তারের সময় তাঁর বয়স ছিল ৭৭ বছর। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তিনি দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি ছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

কোথা থেকে তাঁকে আটক করা হয়?
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১৫ জুলাই রাতে রাজধানীর বনানী ডিওএইচএস এলাকার একটি বাসা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তাঁকে আটক করে। পরদিন ১৬ জুলাই পুলিশ তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করার কথা জানায়। এরপর প্রচলিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাঁকে সেনাবাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয় বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

দীর্ঘদিন পলাতক থাকা একজন সাবেক সেনা কর্মকর্তার অবস্থান শনাক্ত করে তাঁকে আটক করার ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই জনমনে কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। তবে তাঁর আটকের পেছনে ঠিক কোন কোন সূত্র কীভাবে কাজ করেছে, সে বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোর তথ্য আলাদা করে যাচাই করা জরুরি।

১৯৮১ সালের সেই ঘটনা
১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে একদল সেনা কর্মকর্তা হামলা চালালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ও আলোচিত ঘটনা। হত্যাকাণ্ডের পর সংশ্লিষ্ট সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হয় এবং কয়েকজনের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডসহ বিভিন্ন সাজা ঘোষণার তথ্য ঐতিহাসিক নথি ও সংবাদ প্রতিবেদনে পাওয়া যায়।

মোজাফফর হোসেনের নামও ওই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি হিসেবে সংবাদমাধ্যমে এসেছে। দীর্ঘ সময় তাঁকে আটক করা না যাওয়ায় মামলাটি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে আলোচনা হয়েছে।

কীভাবে সামনে এল তাঁর পরিচয়?
প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের সহায়তায় তাঁর অবস্থান শনাক্ত করা হয়। তাঁকে আটকের পর পরিচয় যাচাই করা হয় এবং পরে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তবে তাঁর আত্মগোপনের পুরো সময়কাল, ব্যবহৃত পরিচয় কিংবা অবস্থান পরিবর্তনের প্রতিটি ঘটনা সম্পর্কে সব তথ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত নয়। তাই এসব বিষয়ে নির্দিষ্ট দাবি করার আগে নির্ভরযোগ্য সূত্রের বক্তব্য দেখা গুরুত্বপূর্ণ।

এখন কী হতে পারে?
মোজাফফর হোসেনকে আটকের পর তাঁর বিরুদ্ধে পূর্বের দণ্ড ও সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তাঁর বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আইনগত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভরশীল। একই সঙ্গে ১৯৮১ সালের হত্যাকাণ্ডের বিভিন্ন দিক নিয়ে নতুন কোনো তথ্য সামনে এলে তা নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

সব মিলিয়ে, দীর্ঘ ৪৫ বছর পর জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনের আটক বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি আলোচিত ঘটনার প্রতি নতুন করে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। তবে আলোচিত কোনো ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্য প্রকাশের সময় নিশ্চিত তথ্য, ঐতিহাসিক বর্ণনা ও অনুমানকে আলাদা করে দেখা জরুরি।

তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ২৪, বাসস, এনটিভি অনলাইন ও প্রথম আলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদন।

Author: Janatar Barta

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *