তাজমিনের ব’য়ফ্রেন্ড সব স্বী’/কার করে জানাই মাত্র দুইবার… more

তাজমিনের কথিত প্রেমিক রাজুর মুখে উঠে এলো সম্পর্কের নানা তথ্য, বললেন মাত্র কয়েকবার দেখা হওয়ার কথা!
কুমিল্লার স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিন হত্যা মামলাকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তাজমিনের সঙ্গে পরিচয়, সম্পর্ক, কক্সবাজারে দেখা হওয়া এবং বাড়ি ফেরার আগে তাঁদের শেষ কথোপকথন নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন তাঁর কথিত প্রেমিক রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজু। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ‘সব স্বীকার করে জানিয়েছেন, মাত্র দুইবার…’—এই দাবির সম্পূর্ণ বক্তব্য যাচাই করা জরুরি। প্রকাশিত সংবাদে রাজুর সম্পর্ক ও যোগাযোগের বিষয়ে বক্তব্য পাওয়া গেলেও, ‘মাত্র দুইবার’ কথাটির নির্দিষ্ট অর্থ নিশ্চিত নয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়
প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে তাজমিন ও রাজুর মধ্যে যোগাযোগ গড়ে ওঠে। পরে তাজমিন কক্সবাজারে যান এবং সেখানে রাজুর সঙ্গে দেখা করেন। তাঁদের একসঙ্গে হোটেলে থাকার তথ্যও তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

শেষ ফোনালাপ নিয়ে কী বলেছিলেন রাজু?
১২ অক্টোবর প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে রাজুর বক্তব্য তুলে ধরে জানানো হয়, তাজমিন বাড়ি ফেরার পথে তাঁর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিলেন। পরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। রাজুর দাবি অনুযায়ী, তাজমিন তাঁকে বার্তা পাঠিয়ে চিন্তা না করতে বলেছিলেন। এরপর তাজমিনের মৃত্যুর খবর পান তিনি। এসব তথ্য রাজুর বক্তব্য হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে; এগুলোকে স্বাধীনভাবে প্রমাণিত সব তথ্য হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়।

হত্যাকাণ্ডে রাজুর সংশ্লিষ্টতা কি প্রমাণিত?
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। তাজমিনের সঙ্গে পরিচয় ও সম্পর্ক থাকার কথা স্বীকার করা এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করা এক বিষয় নয়। ১৩ অক্টোবর প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজুকে জিজ্ঞাসাবাদের পর কক্সবাজারে ৫৪ ধারায় আদালতে পাঠানো হয় এবং হত্যাকাণ্ডে তাঁর সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য জানানো হয়নি। অন্যদিকে, অটোরিকশাচালক সুমন মিয়ার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ রয়েছে এবং তাঁর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার খবরও প্রকাশিত হয়েছে।

শেষ কথা
তাজমিন হত্যাকাণ্ডের মতো সংবেদনশীল ঘটনায় অসম্পূর্ণ শিরোনাম বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দাবি থেকে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়। রাজুর বক্তব্যের সম্পূর্ণ ভিডিও বা নির্ভরযোগ্য প্রতিবেদনে ‘মাত্র দুইবার’ কথাটি ঠিক কী প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, তা নিশ্চিত হলে বিষয়টি আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরা সম্ভব হবে। তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ার তথ্যের ভিত্তিতেই এ মামলার পরবর্তী অগ্রগতি মূল্যায়ন করা উচিত।

Author: Janatar Barta

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *