সমাজ বলেছিলো “ভি’/ক্ষা করো”তিনি বলছিলেন,না,পড়াশোনা করবো… more

সমাজ বলেছিলো “ভিক্ষা করো…!”
তিনি বলছিলেন, “না, পড়াশোনা করবো…..” 😌
ইনি হলেন রুবেল স্যার। পাবনার এক হাই-স্কুলের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক।
রুবেল স্যার জন্ম থেকে কিন্তু এমন ছিলেন না। ছোটবেলায় হঠাৎ একটা বিরল রোগ হয় তার। কিন্তু কবিরাজের ভুল ট্রিটমেন্টে তার দুই পায়ের ক্ষতি হয়ে যায়। একসময় চিরতরে অবশ হয়ে যায় দুটি পা-ই।
পা হারানোর পর চারপাশের মানুষ, এমনকি সমাজের অনেকেই বাঁকা চোখে তাকাতে শুরু করে।
কেউ কেউ বলেছিলো, “পড়াশোনা করে কী হবে? তার চেয়ে মানুষের কাছে হাত পাতলে তো ভালো টাকা ইনকাম হবে!” কিন্তু রুবেল স্যারের ডিকশনারিতে ‘ভিক্ষা’ বা ‘সহানুভূতি’ বলে কোনো শব্দ ছিল না।
দুই হাতের ওপর ভর দিয়ে, মাটিতে ঘষতে ঘষতে তিনি প্রতিদিন স্কুলে যেতেন। নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে নিজের যোগ্যতায় পড়াশোনা শেষ করেন।👍
পড়াশোনা শেষ করে রুবেল স্যার শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নেন। গত ১৪ বছর ধরে হাই স্কুলের খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে ইংরেজি পড়াচ্ছেন। ক্লাসে তিনি যখন হোয়াইট বোর্ডে চক-মার্কার নিয়ে ইংরেজি গ্রামার ভেঙে ভেঙে বুঝিয়ে দেন, শিক্ষার্থীরা মুগ্ধ হয়ে শোনে। শিক্ষার্থীরা তাকে নিজের বাবার মতো সম্মান করে, কারণ তিনি প্রতিটি বাচ্চাকে নিজের সন্তানের মতো ভালোবাসেন। কখনো কোনো ক্লাসে ফাঁকি দেন না, শত কষ্টের পরও মুখে সবসময় হাসি লেগে থাকে।
খণ্ডকালীন চাকরি হওয়ায় প্রতি মাসে তিনি পান মাত্র ৭,০০০ টাকা! এই সামান্য টাকা দিয়ে স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ ৪ জনের সংসার চালানো যে কতটা কষ্টের, তা সহজেই অনুমেয়।
টাকার অভাবে কখনো সকালে না খেয়েই স্কুলে চলে আসেন, কখনো দুপুরেও জোটে না খাবার। ডাল-ভাত খেয়েই কোনোমতে বেঁচে আছেন তারা।
চলাচলের একমাত্র ভরসা একটি পুরনো হাতচালিত সাইকেল, যা অর্থের অভাবে মেরামতও করতে পারছেন না। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন এই ভাঙা গাড়িতে করেই তিনি কর্মস্থলে যান।
রুবেল স্যার কারও কাছে দয়া চান না। তিনি চান তার যোগ্যতার মূল্যায়ন। ১৪ বছর ধরে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে হাড়ভাঙা খাটুনি খাটার পর, এখন তার একটাই স্বপ্ন সরকার যেন তার এই চাকরিটা স্থায়ী করে দেয়, অথবা তার যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা বিবেচনা করে একটা সরকারি চাকরির ব্যবস্থা করে দেয়। যাতে বাচ্চাদের পড়াশোনার খরচ আর বৃদ্ধ মা-বাবার ওষুধের টাকাটা তিনি ঠিকঠাক জোগাড় করতে পারেন।
রুবেল স্যারের এই অদম্য লড়াই আমাদের শেখায় ইচ্ছাশক্তি থাকলে কোনো শারীরিক সীমাবদ্ধতাই মানুষকে আটকে রাখতে পারে না। আসুন, রুবেল স্যারের এই গল্পটা সবাই মিলে শেয়ার করি। হয়তো আমাদের একটা শেয়ারই এই সংগ্রামী শিক্ষকের ভাগ্য বদলে দিতে পারে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আসতে সাহায্য করতে পারে। 🙏

Author: Janatar Barta

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *